১৫ বছরের বেশি সময় আগে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে হত্যাকাণ্ড ও নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ড ঘিরে প্রকৃত সত্য বের করতে জাতীয় স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সোমবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চে এমন তথ্য জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া আবেদন ১০ দিনের মধ্যে নিস্পত্তির নির্দেশ দেয় হাইকোর্টের এই বেঞ্চ। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি শুনানিতে আসে। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তানিম খান। তিনি কমিটির বিষয়টি চূড়ান্ত করতে দুই সপ্তাহ সময়ের আরজি জানান।
আদালত ১৫ ডিসেম্বর পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন। এই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে হলফনামা আকারে তথ্যাদি জমা দিতে বলা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তানিম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পর আমাদের জানানো হয়েছে যে, কমিশন গঠনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। কয়েকদিন লাগবে। বিষয়টি হাইকোর্টকে অবহিত করেছি। আদালত এ বিষয়ে দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন।’
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর সদর দপ্তরে ‘গণহত্যা’ তদন্তের জাতীয় স্বাধীন কমিশন গঠনের নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী তানভীর আহমেদ ও বিপ্লব কুমার পোদ্দার গত অক্টোবরে এ রিট আবেদনটি করেন। রিটের যুক্তিতে বলা হয়, সংঘটিত এই গণহত্যায় মূল পরিকল্পনাকারী ও নেপথ্যে কারা ছিল, এ বিষয়ে জাতীয়ভাবে পূর্ণাঙ্গ কোনো তদন্ত প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভুক্তভোগী পরিবার ও তৎকালীন সেনা কর্মকর্তারা ওই ঘটনা নিয়ে নতুন নতুন তথ্য দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বাধীন কমিশন গঠন ও সেনা দিবস ঘোষণার দাবিতে আবেদনটি করা হয়।
আইনজীবীরা জানান, রিট আবেদনের পাশাপাশি পিলখানার ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন এবং ২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’ ঘোষণায় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে গত ৩ নভেম্বর স্বরাষ্ট্রসচিবের (জননিরাপত্তা বিভাগ) উদ্দেশ্যে একটি আবেদন করা হয়।
পিতৃপরিচয় চেয়ে আ. লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা