মমতার বক্তব্যে বাংলাদেশের জনগণ বিস্মিত হয়েছে: রিজভী

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৯:৩৮ পিএম

ভারতের পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অবজ্ঞা ও অপমান করার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ভিনদেশের একজন রাজনীতিবিদের এই প্রস্তাব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অবজ্ঞা ও অপমান করার সামিল। এটি একটি স্বাধীন দেশের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের হুমকি।

আজ সোমবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি মমতার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, এটি স্বাধীন দেশের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের হুমকি। বাংলাদেশের জনগণ পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর এহেন বক্তব্যে বিস্মিত ও হতভম্ব হয়েছে। এদেশের মানুষ পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একজন সেক্যুলার ও উদার দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ হিসেবে জানত। তার বক্তব্যে আবারও প্রমাণিত হলো কট্টর হিন্দুত্ববাদী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

রিজভী বলেন, ভারতের প্রায় অধিকাংশ রাজনীতিবিদই বাংলাদেশের মানুষের স্বজাত্যবোধ ও নাগরিক স্বাধীনতাকে মানে না। সেই কাতারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার অবস্থান পরিষ্কার করলেন। এরা নিজ দেশের অন্যায় দেখেও না দেখার ভান করে। গুজরাটের হাজার হাজার মুসলিম হত্যার সেই ট্র্যাজেডি আজও বিশ্ববাসী বিস্মৃত হয়নি। কাঁটাতারের বেড়ার ওপর ফেলানীর জুলন্ত লাশ এরা কি ভুলে গেছেন? ভারতের কেন্দ্রীয় সাম্প্রদায়িক শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে একই কোরাসে অংশগ্রহণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের স্বাধীন মর্যাদাকে অগ্রাহ্য করেছেন।

৮১ শতাংশ সনাতন বা হিন্দুধর্মালম্বীদের দেশ নেপালের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক উষ্ণ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, একই সঙ্গে নেপালের জনগোষ্ঠীও ভারতের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন নয়। তাই বুঝতে হবে বাংলাদেশ সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের প্রতি ভারতের অতি ভালোবাসা প্রকাশও অন্য কিছু কাজ করছে। ভারতের কোনো ধর্মীয় ভাবাবেগ, ভালোবাসা বা বন্ধন জড়িত নেই। আছে এটিকে পুঁজি করে ভারতের আধিপত্যবাদী আগ্রাসী মনোভাব ও ষড়যন্ত্র।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরফত আলী সপু, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত