সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভায় ডাক্তার নেই সাড়ে তিন বছর। এ কারণে চিকিৎসা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে পৌরসভার শিশুসহ নানা বয়সের শতশত মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ পৌরসভায় বাড়ি রয়েছে ১৪ হাজার। লোকসংখ্যা ৫৭ হাজার। পৌরবাসীর চিকিৎসার জন্য পৌরসভায় একটি স্বাস্থ্য বিভাগও রয়েছে। এ বিভাগে বর্তমানে নারী ও শিশুদের টিকাদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। চিকিৎসক না থাকায় স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শত শত মানুষ। শাহজাদপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন-অর-রশীদ বর্তমানে পৌরসভার সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি জানান, পৌরবাসীর স্বাস্থ্য সেবার জন্য ইতিপূর্বে এই পৌরসভাতে ছয়জন স্বাস্থ্য কর্মী রয়েছে। একজন এমবিবিএস ডাক্তারও ছিলেন। সর্বশেষ ২০২১ সালে লিয়াকত হোসেন নামে যে ডাক্তার কর্মরত ছিলেন তিনি কিছুদিন চাকরি করার পর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে পৌরসভা থেকে চলে যান। তখন থেকেই স্বাস্থ্য শাখায় এই পদটি শূন্য রয়েছে।
এ ব্যাপারে ডাক্তার লিয়াকত হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শিশু ও মায়েদের চিকিৎসার পাশাপাশি ৫০ টাকা ফি নিয়ে সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া হতো। এ টাকা পৌরসভার কোষাগারে জমা হতো।
তিনি বলেন পৌরসভায় আমার কোন বসার জায়গা ছিল না। যে রুমে শিশু ও নারীদের টিকা দেওয়া হতো সেখানেই আমাকে বসতে হতো। এছাড়া বেতন অনিয়মিত থাকায় কিছুদিন চাকরি করার পর ২০২১ সালের বাধ্য হয়ে সে বছর ১৬ জুন চাকরি ছেড়ে দিয়েছি।
পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আল-মাহমুদ জানান, শাহজাদপুর পৌর এলাকা থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বয়স্ক মানুষ, শিশু ও নারীদের দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে স্বাস্থ্য সেবা নেওয়া অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান জানান, শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পৌরসভার নাগরিকদের স্বাস্থ্য সেবার তদারকির জন্য। চিকিৎসা সেবা দেওয়ার সার্বক্ষণিক একজন ডাক্তারের জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি চাহিদাপত্র পাঠানো হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আমি ও একজন কনসালটেন্ট সহ চারজন ডাক্তার রয়েছে। এই স্বল্প সংখ্যক ডাক্তার দিয়ে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মানুষের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি জানান, ডাক্তারের শূন্যপদ পূরনের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত সময়ের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের কাছে শাহজাদপুর পৌরসভার জন্য একজন ডাক্তারের চাহিদাপত্র পাঠানো জরুরি।
রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পুলিশ চায় ৮৯.৫ শতাংশ জনগণ
এক দশকে বেকারত্বের হার নেমে ৩.৩৫ শতাংশে
ত্রিপুরায় বাংলাদেশিদের জন্য সব হোটেল বন্ধ, মিলবে না খাবারও