চলতি মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজির তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম অপরিবর্তিত রেখে ১ হাজার ৪৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের অন্যান্য ওজনের এলপি গ্যাসের দামও অপরিবর্তিত রাখার পাশাপাশি গাড়িতে ব্যবহৃত প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম আগের মাসের মতোই (৬৬.৮১ টাকা) রয়েছে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক সংবাদ সম্মেলনে ডিসেম্বর মাসের নতুন দর ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। এটি যা আজ সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, মো. মিজানুর রহমান, মো. আব্দুর রাজ্জাক, সচিব ব্যারিস্টার খলিলুর রহমান প্রমুখ।
এছাড়া সরকারি কোম্পানির সরবরাহকৃত সাড়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম ৬৯০ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। যদিও সারা দেশে চাহিদার তুলনায় এটি মাত্র ১ থেকে দেড় শতাংশের মতো সরবরাহ করার সক্ষমতা রয়েছে। আবার যাও সরবরাহ করা হয় তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
ঘোষিত দর অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১২১ টাকা ২৫ পয়সা বিবেচনায় সাড়ে ৫ কেজি থেকে ৪৫ কেজি ওজনের বোতলজাতকৃত এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত রেটিকুলেডেট পদ্ধতিতে তরল ও গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহকৃত এলপিজির দামও রয়েছে অপরিবর্তিত।
এর আগে জুলাই মাসে ১২ কেজি এলপিজির দাম ৩ টাকা বেড়ে হয় ১ হাজার ৩৬৬ টাকা। পরে মাস আগস্টে ১১ টাকা বেড়ে ১৩৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সেপ্টেম্বরে আরও ৪৪ টাকা বাড়িয়ে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪২১ টাকা। আর সর্বশেষ অক্টোবরে আরেক দফা বেড়ে ১ হাজার ৪৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একইভাবে অটোগ্যাস এবং অন্যান্য আকারের এলপিজির দামও বাড়ানো হয়। তবে গত মাসে ১২ কেজি এলপিজির দাম কমানো হয় মাত্র ১ টাকা।
তবে গত জুন ও মে মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম যথাক্রমে ৩০ টাকা ও ৪৯ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৬৩ টাকা ও ১ হাজার ৩৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আর টানা ৮ মাস মূল্যবৃদ্ধির পর গত ৩ এপ্রিল ভোক্তা পর্যায়ে কমানো হয়েছিল এলপিজির দাম। মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিলে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৪০ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৪৪২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া গত মার্চ মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৮২ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ৪১ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৭৪ টাকা ও জানুয়ারিতে ২৯ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
গত বছরের জুলাই মাসে ১২ কেজি ওজনের এলপিজির দাম ছিল ৯৯৯ টাকা। ৮ মাসের ব্যবধানে গত মার্চ মাসে সমপরিমাণ এলপিজির দাম বেড়ে ১৪৮২ টাকা দাঁড়িয়েছিল। পরবর্তীতে ওই দাম কোনও মাসে বেড়েছে আবার কোনও মাসে কমেছে।
এলপিজি মূলত প্রোপেন ও বিউটেন এর একটি মিশ্রিত অনুপাত। এই দুটিই আমদানি করা হয়। সৌদি আরামকোর ঘোষিত মূল্য (সৌদি সিপি) ধরে ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে দেশে এলপি গ্যাসের দাম ঠিক করে আসছে বিইআরসি। দাম নির্ধারণে ডলারের মূল্যও একটি ভূমিকা রাখে।
যদিও বাজারে কমিশনের বেঁধে দেওয়া মূল্যের চেয়ে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মতো বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করছেন বলে দীর্ঘদিন ধরেই ভোক্তারা অভিযোগ করে আসছেন। এক্ষেত্রে বিইআরসির বক্তব্য হচ্ছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে তদারকি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাসাবাড়িতে পাইপলাইনে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকটের কারণে গৃহস্থালি রান্নার পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ছোট-বড় শিল্পকারখানায়ও এলপিজি ব্যবহার বাড়ছে।
এবার নাটকে ডা. সাবরিনা, সঙ্গে ফজলুর রহমান বাবু
মুক্তির আগেই ব্লকবাস্টার সিনেমার রেকর্ড ভাঙল আল্লুর ‘পুষ্পা ২: দ্য রুল’!