টেস্ট ক্রিকেটের আতুর ঘর বলা হয় ইংল্যান্ডের লর্ডসকে। সেখানেই জন্ম নিয়েছিল বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এই খেলাটি। এখানে প্রতিটি বল যেন নতুন এক গল্প লেখে। লর্ডসের ঐতিহাসিক মাটিতে অথবা এজবাস্টনের উন্মত্ত আবহাওয়ায়, ক্রিকেটের হৃদস্পন্দন অনুভূত হয়। দেশটির নামের পাশে আছে অগণিত অর্জন। একবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ ছাড়াও দুবার টি-টোয়েন্টির বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন তারা। কিন্তু যাদের হাতে জন্ম এই ক্রিকেটের, সেই ইংল্যান্ড কেন এখনও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলতে পারেনি? এবারের আসরে ২১ ম্যাচে ১১ জয় থাকা সত্ত্বেও কেন তারা ফাইনালের কাছাকাছি পৌঁছতে পারল না?
এর পেছনে আছে কয়েকটি কারণ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তৃতীয় আসরেও কেন ফাইনাল খেলতে পারেনি সেটা জানার আগে জেনে নেওয়া যাক আগের দুই আসরে কেমন করেছিল তারা?
প্রথম আসরের পরাজয়ের গল্প (২০১৯-২১)
তৃতীয় আসরের মতো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরেও ইংল্যান্ড ২১টি ম্যাচ খেলে ১১টি জয় পায়। যদিও তারা পয়েন্ট টেবিলের উপরের দিকে ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফাইনালের স্বপ্ন তাদের অধরাই রয়ে যায়। নিউজিল্যান্ড এবং ভারতের ধারাবাহিকতা তাদের পিছিয়ে দেয়। তবে, ইংল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল ঘরের মাঠে হঠাৎ হারের ঘটনা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলের কাছে অপ্রত্যাশিত পরাজয় এবং অ্যাশেজ সিরিজে ড্র তাদের পয়েন্টের দৌড়ে পিছিয়ে দিয়েছিল।
দ্বিতীয় আসরে আবারও ব্যর্থতা (২০২১-২৩)
দ্বিতীয় আসরেও ইংল্যান্ড সর্বাধিক ম্যাচ খেলে ১০টি জয় পেয়েছিল। কিন্তু, স্লো ওভার রেটের কারণে প্রায় ২ ডজন পেনাল্টি পয়েন্ট তাদের ক্ষতি করে। অ্যাওয়ে সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে হার তাদের যোগ্যতা অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ইংল্যান্ডের অসংলগ্নতা এবং পারফরম্যান্সের অনিশ্চয়তা তাদের ফাইনালের কাছাকাছি পৌঁছাতে দেয়নি।
কেন পিছিয়ে থাকে ইংল্যান্ড? ইংল্যান্ডের ব্যর্থতার পেছনে রয়েছে বেশ কিছু কারণ
অসংলগ্নতা: ইংল্যান্ড দলে প্রতিভার অভাব নেই, তবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের অভাব তাদের পিছিয়ে দেয়। কখনও ব্যাটিং, কখনও বোলিং, এবং কখনও মাঠে প্রজ্ঞার অভাব তাদের ফলাফলকে ব্যাহত করে।
পেনাল্টি পয়েন্ট: স্লো ওভার রেটের কারণে ইংল্যান্ড প্রায়ই মূল্যবান পয়েন্ট হারায়। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মত টুর্নামেন্টে পেনাল্টি পয়েন্টের প্রভাব বড় হয়ে দেখা দেয়, যা তাদের ফাইনাল সম্ভাবনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অ্যাওয়ে পারফরম্যান্স: উপমহাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের পারফরম্যান্স একাধিকবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ঘরের মাঠে শক্তিশালী হলেও বিদেশে তাদের পারফরম্যান্সে অস্থিরতা থেকেই গেছে, বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে তাদের ব্যর্থতা।
প্রায়োরিটি মিসম্যাচ: ইংল্যান্ড সীমিত ওভারের ক্রিকেটে প্রচুর মনোযোগ দিয়েছে। তবে, টেস্ট ক্রিকেটের জন্য যথেষ্ট ফোকাস এবং পরিকল্পনা তাদের মাঝে কম দেখা গেছে, যা তাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথ কঠিন করে তুলেছে।
বাস্তবতা
তারপরও ইংল্যান্ডের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এখনও শিরোপা জয় হয়নি। তাদের পারফরম্যান্স অনেকটা জয়ের দিকে এগিয়ে থাকলেও, ফাইনালের গন্তব্যের দূরত্ব যেন তাদের কাছে অপরাধবোধের মতো অনুভূত হচ্ছে। তবে, ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে আরও একটি অধ্যায় জুড়তে হতে পারে পরবর্তী আসরে। তাদের দক্ষতা এবং সম্ভাবনা প্রবল, কিন্তু প্রয়োজন শুধু ধারাবাহিকতা এবং কিছু কৌশলগত পরিবর্তন।
ক্রীড়া বিশ্লেষকরা বলছেন, ইংল্যান্ডকে এবার নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। তাদের ফাইনালের স্বপ্ন ম্লান হলেও, একথা নিশ্চিত— ক্রিকেটের রোমাঞ্চে ইংল্যান্ডের উপস্থিতি অনস্বীকার্য। ফাইনালের পথে তাদের অপেক্ষা, হয়তো ইতিহাস গড়ার জন্য আরেকটি দুঃসাহসিক যাত্রা হতে পারে।
বৈভবকে ৯ রানেই আটকে দিলেন মারুফ
উইন্ডিজ শিবিরে ফের ধাক্কা, ছিটকে গেলেন হেটমায়ার
হেরে ৩-এ নামল ভারত, চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠতে পারবে?