লক্ষ্মীপুর

বালু উত্তোলনের কারণে শতকোটির স্লুইস গেইট ধ্বসে পড়ার শঙ্কা

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ০২:১৮ পিএম

লক্ষ্মীপুরে মজুচৌধুরীর হাটে শতকোটি টাকার স্লুইস গেইট ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এরই মধ্যে ভেঙে গেছে স্লুইস গেইটের দেয়ালের রেলিং। রাতের আঁধারে তা নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। গত একমাস ধরে বালু ব্যবসায়ীদের বহনকৃত বলগেট ধাক্কায় ও উত্তোলনের সময় কম্পনে স্লুইস গেইটের দুই পাশের মাটি সরে যাচ্ছে। এতে আগামী বর্ষার মৌসুমে শত কোটি টাকার স্লুইস গেইটটি ধ্বসে পড়ার শঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এ ব্যাপারে স্থানীয় এলাকাবাসী বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাটে ১৯৭৫ সালে নোয়াখালী, কুমিল্লা ও বর্তমান লক্ষ্মীপুর জেলার পানি দ্রুত নামার জন্য মেঘনার মুখে রহমতখালী খালের উপরে শতকোটি টাকা ব্যয়ে স্লুইস গেইট নির্মাণ করা হয়। যার ফলে বিগত বন্যা ও বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশনসহ এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের কৃষিকাজে পানি ব্যবহারের জন্য এ স্লুইস গেইটটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

কিন্তু মজুচৌধুরীর হাট এলাকার কয়েকজন অবৈধ বালু ব্যবসায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি জায়গা দখল করতে এবং স্লুইস গেইট ধ্বসে পড়ার জন্য প্রতিনিয়ত তারা স্লুইস গেইটের গাইড ওয়ালে বালুভর্তি বলগেট এনে ধাক্কা দিয়ে কম্পন সৃষ্টি করে। এছাড়া বালু ব্যবসায়ীদের কয়েকজন স্লুইস গেইটের পাশে বেড়ি বাঁধ কেটে পাইপ ঢুকিয়ে বালু সরবরাহ করছেন।

বালু সরবরাহকালে পাইপ ও মেশিনের কম্পনের ফলে স্লুইস গেইটের দু পাশের মাটি সড়ে যাচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্লুইস গেইটের দু’পাশের বাউন্ডারি রেলিং। প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলনের সময় কম্পনে স্লুইস গেইট দুই পাশের মাটি সরে যাচ্ছে। আগামী বর্ষার মৌসুমে শত কোটি টাকার স্লুইস গেইটটি ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় স্লুইস গেট রক্ষার্থে গেইটের একশ মিটার এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি জমি অবৈধদখল মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় জয়নাল আবদিন ব্যাপারী বলেন, স্লুইসগেইটি এ অঞ্চলের মানুষের জন্য আশীর্বাদ, কিন্তু বালু ব্যবসায়ীদের অসাবধানতায় বালু উত্তোলনের ফলে নষ্ট হলে কুমিল্লা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের মানুষের দুঃখ বাড়বে। 

ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল জানান, অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বলগেটের ধাক্কায় স্লুইস গেইটের গাইডওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের এসব কারণে ও প্রশাসনের অসহযোগিতার সুযোগে দুর্বৃত্তরা গাইড ওয়ালের উপর রেলিংয়ের ভাঙা অংশ নিয়ে যায়। 

স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ছৈয়াল জানান, বালু ব্যবসায়ীদের বলগেট ব্যবহার করে বালু উত্তোলনের ফলে স্লুইস গেইটটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে স্লুইস গেইটটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অঞ্চলের মানুষ বর্ষা ও বন্যায় পানিতে ডুববে। তাই এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তিনি।

স্থানীয় গ্রাম চিকিৎসক মিলন জানান, ১৫ বছর আগে এ স্লুইস গেইটকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে ভারী যান চলাচলে নিষিদ্ধ করে। কিন্তু বর্তমানে বালু ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য স্লুইস গেইটের পাশে রাস্তা কেটে পাইপ দিয়ে বালু সরবরাহ করছে। এছাড়া ব্যবসায়ীদের বালু আনলোডের সময় মিশিনের কম্পনসহ বালুভর্তি বলগেইটের ধাক্কায় স্লুইস গেইড কেঁপে উঠে। এ কাজ বন্ধ না হলে শত কোটি টাকার বন্যা ও বর্ষার পানি নিষ্কাশনে গেইটটি ধ্বসে যাবে।

অভিযোগ অস্বীকার করে বালু ব্যবসায়ী আব্দুল বাদশা জানান, স্লুইস গেইটে তাদের বালুভর্তি বলগেট এখন আর বালু নিয়ে গাইড ওয়ালের কাছে ভিড়ছেন না। এছাড়া রাস্তাকেটে পাইপ নেয়ার বিষয়ে তারা ১৫ দিনের মধ্যে রাস্তা থেকে অপসারণ করে রাস্তা মেরামত করে দেবেন জানান। স্থানীয় প্রশাসনও তাদের ১৫ দিন সময় দিয়েছেন। 

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ জামান খান বলেন, মজুচৌধুরীরহাট স্লুইস গেইট সংলগ্ন এলাকায় রাস্তাকেটে পাইপ দিয়ে বালু সরবরাহ এবং স্লুইস গেইটের পাশে বালুভর্তি বলগেট ভিড়ে বালু সরবরাহ না করার জন্য ব্যবসায়ীদের ১৫ দিনের মধ্যে তা অপসারণের সময় দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। 

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জামশেদ আলম রানা জানান, তিনি সম্প্রতি সদর উপজেলায় নির্বাহী অফিসার পদে যোগদান করেছেন। বিষয়টি অবগত হয়েছেন। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে তিনি জানান।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত