প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে আগামী ১৪-১৭ ডিসেম্বর পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস হোর্তা বাংলাদেশে সরকারি সফর করবেন। বাংলাদেশে দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ে এটি প্রথম সরকারি সফর হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রামোস হোর্তার সফর উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এই সরকারি সফরে রামোস হোর্তা বাংলাদেশের বিজয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের ১৯ সদস্যের প্রতিনিধিদলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির মুখ্য উপদেষ্টাসহ সরকারি কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। স্বাধীনতা লাভের পরপর ২০০২ সালের ৭ জুন বাংলাদেশ পূর্ব তিমুরকে স্বীকৃতি প্রদান করে, যার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। দেশটির স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশটির জনগণ আজও বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বলে পররাষ্ট্র সচিব জানান।
তিনি জানান, তিমুর প্রেসিডেন্টের এ সরকারি সফরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেসব বিষয়ে চুক্তি হতে পারে সেগুলো হচ্ছে (ক) অফিশিয়াল এবং কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তি এবং (খ) দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শমূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক। এ সফরকালে বাংলাদেশে পূর্ব তিমুরে অনারারি কনস্যুলেট খোলার বিষয়েও ঘোষণা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতীয় কোস্ট গার্ডের হাতে আটক ৭৯ নাবিক শিগগিরই দেশে ফিরবে : ভারতীয় কোস্ট গার্ডের হাতে আটক বাংলাদেশের দুই ট্রলারসহ ৭৯ নাবিককে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে শিগগিরই ফেরানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এ বিষয়ে আমরা ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং আমাদের যারা ভারতীয় কর্র্তৃপক্ষের হাতে আছে তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য আলাপ-আলোচনা চলছে। আমাদের প্রত্যাশা, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা তাদের শিগগিরই ফিরিয়ে আনতে পারব।
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার শেষপ্রান্তে মাছ আহরণের সময় ৭৯ নাবিকসহ দুটি ট্রলার জব্দ করে নিয়ে গেছে ভারতীয় কোস্ট গার্ড। খুলনার হিরণ পয়েন্ট এলাকার অদূরে সোমবার ভারতীয় কোস্ট গার্ড তাদের নিয়ে যায়।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব প্রসঙ্গ : ভারতের পররাষ্ট্র সচিব তার সংসদকে ব্রিফ করেছেন ‘শেখ হাসিনা সেখানে বসে যে বক্তব্য দিচ্ছে তার সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই’ এ বিষয়টি ঢাকায়ও আপনাদের স্পষ্ট করেছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে আমাদের যে আলোচনা হয়েছে, সেখানে আমরা আমাদের বক্তব্য তাদের বলেছি। ভারতে বসে তিনি যে বক্তব্য দিচ্ছেন সেটা আমাদের অন্তর্বর্তী সরকার পছন্দ করছে না। এটা যাতে তাকে জানানো হয়। তিনি উত্তরে যেটা বলেছেন, সেটি ভারতে গিয়েও বলেছেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর ভারতে উপস্থিতি আমাদের দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না।
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের একটি বিষয় এবং এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেরও বিষয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যখন এ বিষয়টি আসবে তখন পরবর্তী সময়ে আমরা প্রক্রিয়াটা শুরু করব।
