'অবিশ্বাস্য!' ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের নতুন তারকা আমির অ্যান্থনি জাঙ্গু এভাবেই বর্ণনা করলেন তার ম্যাচজয়ী শতকের অভিজ্ঞতা। সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে অনুষ্ঠিত তৃতীয় এবং শেষ একদিনের ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতে নেয় স্বাগতিকরা।
জাঙ্গু, যিনি এই বছর সিজি ইউনাইটেড সুপার ৫০ কাপে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো রেড ফোর্সের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৪৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন, সেই দুর্দান্ত ফর্ম নিয়েই আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিষেক করেন। তার অপরাজিত ১০৪ রানের ইনিংসটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩২৫ রানের লক্ষ্যে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৩২১ রান সংগ্রহ করেছিল। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪৫.৫ ওভারে ৬ উইকেটে ৩২৫ রান তুলে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। দলের চতুর্থ উইকেট যখন ৮৬ রানে পড়ে, তখন ক্রিজে আসেন জাঙ্গু। তিনি কেসি কার্টির সাথে ১১৫ বলে ১৩২ রানের জুটি গড়েন। কার্টি দুর্ভাগ্যজনকভাবে ৯৫ রানে আউট হলেও জাঙ্গু দৃঢ়তার সাথে ইনিংস চালিয়ে যান।
জাঙ্গু প্রথম বলেই রান আউট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়লেও সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে শান্তভাবে খেলেন। ৬১ রানে তার একটি ক্যাচ মিস হওয়ায় সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন। সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন আফিফ হোসেনকে ছক্কা মেরে। শেষদিকে গুদাকেশ মতি ৩১ বলে ৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে তাকে দারুণ সঙ্গ দেন। দুজনে মিলে সপ্তম উইকেটে ৫৩ বলে ৯১ রান যোগ করেন।
অভিষেক সেঞ্চুরির পর জাঙ্গু বলেন, 'অভিষেক ম্যাচে শূন্য রান করা এড়ানোই ছিল আমার প্রথম লক্ষ্য। ভাগ্য আমার পাশে ছিল। আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। কোচ ড্যারেন স্যামি আমাকে কী করতে হবে তা খুব পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। আর কার্টির মতো একজন বন্ধুর সাথে ব্যাটিং করায় চাপ অনুভব করিনি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে শতক পায়নি, তবে ওর ইনিংসটা ছিল অসাধারণ।'
১৯৭৮ সালে ডেসমন্ড হেইন্সের পর অভিষেক ম্যাচে শতক করা প্রথম ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান হিসেবে গর্বিত জাঙ্গু বলেন, 'আমি শুধু সাদা বলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত হতে চাই না। আমি সব ফরম্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলতে চাই। ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করছি না, তবে যেটাই আসুক, আমি প্রস্তুত।'
ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই তরুণ তারকার এমন অনুপ্রেরণাদায়ক অভিষেক দেশটির ক্রিকেটে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।
ধবলধোলাই হওয়ার পর মিরাজ বললেন, 'শিখতে হবে'
ব্যর্থতায় বন্দি লিটন