হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর মিরাজ বললেন, 'শিখতে হবে'

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:৩৭ এএম

সেন্ট কিটসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৩২১ রান করেও তৃতীয় ওয়ানডেতে ৪ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। ২৫ বল বাকি থাকতে এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ক্যারিবীয়দের কাছে ১০ বছর পর ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ। নতুন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে প্রথম ওয়ানডে সিরিজটি যেমন হতাশার, তেমনি এর শেষে এসেছে কিছু ইতিবাচক বার্তাও।

পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে মিরাজ বলেন, 'আমরা বোলিংয়ে আরও ভালো করতে পারতাম এবং মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট নিতে পারিনি—এটাই আমাদের বড় সমস্যা ছিল।' এই মন্তব্য যেন গোটা সিরিজে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের প্রতিচ্ছবি।

তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশের বড় সমস্যা ছিল মাঝের ওভারগুলোয় কার্যকরী পারফরম্যান্সের অভাব। প্রথম ওয়ানডেতে ২৯৪ রান করেও ৫ উইকেটে হারার পর মিরাজ বলেছিলেন, 'নাহিদ, তাসকিন, তানজিম ভালো শুরু করলেও মাঝের ওভারগুলোতে আমরা উইকেট নিতে পারিনি।' দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ২২৭ রান করে ৭ উইকেটে হারলেও একই সমস্যা ছিল—মাঝের ওভারগুলোতে কোনো বড় জুটি গড়তে না পারা।

তৃতীয় ম্যাচেও এই সমস্যা প্রকটভাবে দেখা দেয়। ক্যারিবীয়রা ৮৬ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর কেসি কার্টি ও অভিষিক্ত আমির জ্যাংগোর ১৩২ রানের জুটি ম্যাচের গতিপথ ঘুরিয়ে দেয়। এরপর গুড়াকেশ মতি ও জ্যাংগোর ৯১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি বাংলাদেশের আশা শেষ করে দেয়।

সিরিজে মিরাজের বোলিং পারফরম্যান্স ছিল একেবারেই প্রত্যাশার বাইরে। ৩ ম্যাচে ২৪ ওভার বল করে ১৫৩ রানে তিনি নিয়েছেন মাত্র ১ উইকেট। গড় ১৫৩.০০, যা সিরিজে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। তৃতীয় ম্যাচে ১০ ওভারে ৬৭ রানে উইকেটশূন্য থাকায় তার নেতৃত্বাধীন বোলিং ইউনিটের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়।

তবে সব হতাশার মাঝেও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ছিলেন উজ্জ্বল এক নাম। তৃতীয় ম্যাচে ৬৩ বলে অপরাজিত ৮৪ রান করে তিনি দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ করে দেন। সিরিজে তিনটি ফিফটি হাঁকানো এই ব্যাটসম্যানের প্রশংসা করে মিরাজ বলেন, 'তিনি দারুণ খেলেছেন। আমরা তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখি।'

সিনিয়র খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি বাংলাদেশকে ভুগিয়েছে। নিয়মিত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন, মুশফিকুর রহিম ও তাওহিদ হৃদয়ের মতো খেলোয়াড়ের অভাব অনুভূত হয়েছে। মোস্তাফিজুর রহমানও পারিবারিক কারণে ছিলেন অনুপস্থিত। মিরাজ স্বীকার করেন, 'চারে ব্যাটিংয়ে আমাকে দায়িত্ব নিতে হবে। সিনিয়র খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি আমাদের জন্য কঠিন ছিল।'

সিরিজ হারলেও মিরাজ শিখতে চান এবং উন্নতির জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সামনে রয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, আর এখন দৃষ্টি টি-টোয়েন্টি সিরিজে। ১৬ ডিসেম্বর থেকে কিংসটাউনে শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এই সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত