সাভারের আশুলিয়ায় সরকার ঘোষিত বার্ষিক ৯ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট প্রত্যাহারসহ নতুন কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে শনিবারও কর্মবিরতি পালন করেছে বেশ কয়েকটি তৈরী পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। ফলে গত কয়েকদিনের লাগাতার কর্মবিরতির কারণে নতুন করে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে। এরই মাঝে ডংলিয়ান ও গিল্ডেন অ্যাক্টিভওয়্যার বাংলাদেশ লিমিটেড কারখানায় ভাঙচুর করে অরাজকতা পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে দুই শ্রমিককে আটক করেছে শিল্প পুলিশ।
শিল্প পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে আশুলিয়ার দক্ষিণ বাইপাইল এলাকার চীনা মালিকানাধীন ডংলিয়ন ফ্যাশন লিমিটেড কারখানায় ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে। একপর্যায়ে তারা কারখানায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায়। এ সময় পুলিশ বিক্ষোদ্ধ শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দিলে তারা পার্শ্ববর্তী গিল্ডেন অ্যাক্টিভওয়্যার বাংলাদেশ লিমিটেড নামক আরও একটি বিদেশি মালিকানাধীন আরেকটি কারখানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় পুলিশ সেখান থেকে ধাওয়া দিয়ে পুলিশ অরাজকতা পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে দুই শ্রমিককে আটক করেছে।
এ দিকে গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালেও কারখানায় হাজিরা নিশ্চিত করে কর্মবিরতি অব্যাহত রাখে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের মালিকানাধীন স্টারলিং ক্রিয়েশন লিমিটেড, ক্রস ওয়্যার লিমিটেড, আইডিএস, এইচ আর টেক্সটাইল ও ফ্যাশন ফোরামের শ্রমিকরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চারটি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়াও শ্রম আইনের ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী ‘নো ওয়ার্ক নো পে’ অর্থাৎ ‘কাজ নেই, মজুরি নেই’ নিয়মে বন্ধ রয়েছে চারটি তৈরি পোশাক কারখানা।
কর্মবিরতি পালনকারী শ্রমিকরা জানায়, মূল্যস্ফীতি এবং নিত্য পণ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়েই তারা বাৎসরিক বেতন ১৫ শতাংশ বাড়ানোর দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছেন।
তবে বেতন বাড়ানোসহ ১৮ দফা দাবিতে টানা দুই মাসের অচলাবস্থা শেষে শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসার পর পোশাক খাতে হঠাৎ করে অস্থিরতার পেছনে দেশি-বিদেশি ইন্ধন ও চক্রান্ত দেখছেন মালিকপক্ষ।
আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূইয়া আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শ্রমিকরা ইনক্রিমেন্ট বাড়ানোর দাবিতে যে আন্দোলন ও কর্মবিরতি পালন করছেন তা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি করতে পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এ ছাড়া যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি ও এপিবিএন সদস্য মোতায়েনসহ গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাহেরীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
আরিচা ঘাটে ১০ দোকান আগুনে পুড়ে ছাই 