হয়নি এমপিওভুক্ত বেতন ছাড়া কর্মীরা

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৬:২৯ এএম

নাটোরের বাগাতিপাড়া দয়ারামপুর এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে নামকরণ করা হয় ‘শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ’। কিন্তু এ নামের কারণে গত ২২ বছরেও এটি এমপিওভুক্ত (শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ যে অর্থ সরকার দিয়ে থাকে তাকে ইংরেজিতে বলা হয় মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার বা এমপিও) করা হয়নি। বাধ্য হয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজের নাম পরিবর্তন করে করা হয় ‘দয়ারামপুর কলেজ’। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি। ফলে ২২ বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ওই কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা। দয়ারামপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা হওয়ায় সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও সাধারণ মানুষের পাঠদানের জন্য তেমন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। তাই এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে দয়ারামপুর কলেজটিকে দ্রুত এমপিওভুক্তির দাবি জানান এলাকাবাসী।

জানা যায়, উপজেলার দয়ারামপুর এলাকায় ২০০২ সালে শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজটির কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠানটি পাঠদানের অনুমতি পায়। ২০০৫ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। কলেজটি এমপিওভুক্ত করতে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে অনেক দৌড়ঝাঁপ করে কর্তৃপক্ষ। তবে দলের প্রতিষ্ঠাতার নামে থাকা এই কলেজটি বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় এমপিওভুক্ত হয়নি। এর মধ্যেই ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ সরকার। সে সময় কলেজের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায় জিয়াউর রহমানের নাম। শুধু নামের কারণেই কলেজটি নিয়ে নানামুখী চাপের মুখে পড়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

কলেজের কয়েকজন শিক্ষক জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এমপিওভুক্ত করার জন্য দৌড়ঝাঁপ করে কেটে যায় আরও ১৩ বছর। এক সময় তারা বুঝতে পারেন এমপিও চালুর ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম। এরপর ২০২১ সালে কলেজটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় দয়ারামপুর কলেজ। ২০১১ সাল থেকে নিয়মিত এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু তারপরও কলেজটির ভাগ্যে মেলেনি এমপিও। কলেজটিতে ২৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী ২২ বছর ধরেই বিনা পারিশ্রমিকে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন।

দয়ারামপুর কলেজ শাখার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আলতাব হোসেন (৫০) বলেন, কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই তিনি নিয়মিত পাঠদান করাচ্ছেন। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করে আসছেন। শুধু প্রতিষ্ঠানটির নামের কারণেই নানা রকম প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে তাদের শিক্ষকতা করতে হয়েছে। দেশের মধ্যে এটাই মনে হয় একমাত্র কলেজ, যেখানে পরীক্ষার কেন্দ্র হয়, অথচ কলেজ এমপিওভুক্ত হয় না।

দয়ারামপুর মিশ্রপাড়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মকলেছুর রহমান বলেন, তাদের বিদ্যালয়ের পাশেই কলেজটি অবস্থিত। ভালো পৃষ্ঠপোষকতা পেলে কলেজটি উন্নত হতে পারত। দয়ারামপুর এলাকার সাধারণ জনগণের কথা বিবেচনা করে কলেজটি এমপিওভুক্ত করা খুবই প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

দয়ারামপুর কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মোরশেদ (৪৯) বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ এই নামের কারণেই তাদের প্রতিষ্ঠানটি প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে। সব শর্ত পূরণ করার পরও কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়নি। নাম পরিবর্তন করেও প্রতিষ্ঠানটিকে এমপিওভুক্ত করানো যায়নি। তবে শত ঝড়ঝাপটার মধ্যেও তারা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদান কার্যক্রম চালু রেখেছেন। ২০১১ সাল থেকে এই কলেজেই এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হয়ে আসছে। ২০২৩ সালেও প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৮৪ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তাই সরকারের কাছে দ্রুত কলেজটিকে এমপিওভুক্তিকরণের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হা-মীম তাবাসসুম প্রভা জানান, বিষয়টি তিনি অবগত নন। দ্রুত খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী পরিচালক (কলেজ) আলমাছ উদ্দিন বলেন, কলেজটির কাগজপত্র দেখলে বোঝা যেত কী অবস্থায় আছে। তবে এমপিওভুক্ত হওয়ার অনেক শর্ত রয়েছে। সেগুলো পূরণ করে নিয়মমাফিক আবেদন করা হলে এটি এমপিওভুক্ত হবে।       

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত