৫০ হাজার টাকা ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে চিকিৎসকদের শাহবাগ অবরোধ 

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৩:১৫ পিএম

৫০ হাজার টাকা ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বিএসএমএমইউ) সব হাসপাতালের বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকরা। সকাল থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর দুপুর ২টার দিকে শাহবাগ মোড়ে রাস্তা বন্ধ করে অবস্থান নেন তারা। রবিবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে বিএসএমএমইউ’র প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন চিকিৎসকরা। কর্মসূচিতে আবাসিক-অনাবাসিক ট্রেইনি চিকিৎসকরা অংশ নেন।

বিক্ষোভকারী চিকিৎসকরা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে একজন ট্রেইনি চিকিৎসককে ২৫ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হয়। এ টাকায় পরিবারের খরচ বহন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এই ভাতা ৫০ হাজার টাকা করতে হবে।

তারা আরও বলেন, গত ৩ বছর ধরে এ আন্দোলন চলছে। এতদিন আওয়ামী লীগ সরকার আমাদের দাবির বিষয়ে কর্ণপাত করেনি। উল্টো জামাত-শিবির ট্যাগ দিয়ে আন্দোলনকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করেছে। প্রশাসনকে দ্রুত  দাবি মেনে নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তারা।

এরপর ট্রেইনি চিকিৎসকদের ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে আলোচনা করতে সচিবালয়ে যান। সেখানে দাবি আদায় না হলে আবারও নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা জানান তারা।

এর আগে শনিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে এক সংবাদ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির সভাপতি ডা. জাবির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. নুরুন নবী জানান, আপনারা ইতোমধ্যে অবগত আছেন চিকিৎসকদের অধিকার আদায়ের প্রতিষ্ঠান ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস সোসাইটি ও এর সহযোগী সংগঠন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (পিপিটিডিএ) ২০২২ সাল থেকেই বেসরকারি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকদের যৌক্তিক দাবি ভাতা বৃদ্ধির জন্য রাজপথে আন্দোলন করে আসছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা রেখে স্বাস্থ্যখাতের সব স্টেকহোল্ডার যথাক্রমে বিসিপিএস, বিএসএমএমইউ, স্বাস্থ্য শিক্ষা মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য সচিব এবং সহকারী স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমানসহ সবার সঙ্গে দেখা করি এবং সবাই ভাতা বৃদ্ধির দাবিকে যৌক্তিক বলেন। এছাড়াও আমাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করবেন বলে কথা দেন। ভাতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় নথি যথার্থ ধাপ পার করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। দুঃখজনক বিষয় হলো, ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ে নথিভুক্ত হয়ে পড়ে আছে। আমাদের প্রত্যাশা ক্রমেই হতাশায় রূপান্তরিত হয় যখন নজরে আসে ভাতা বৃদ্ধির সেই গুরুত্বপূর্ণ নথিটি অর্থ ছাড়ের জন্য অনুমোদিত হয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেনি! যার প্রতিবাদ হিসেবে ১৪ ডিসেম্বর ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস সোসাইটির নেতৃত্বে শহীদ মিনার থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয় এবং ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামও ঘোষিত হয়েছিল।

এর মধ্যে ১৫ ডিসেম্বর ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস থেকে দুজন মুখপাত্র ডা. জাবির হোসেন ও ডা. তানভীর আহমেদ, নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে ডা. আহাদ ও ডা. আশরাফ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র সারজিস আলমসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ে মিটিং হয়। মিটিংয়ে আশ্বস্ত করা হয় সেদিনই (১৫ ডিসেম্বর) এই নথিটি অনুমোদন দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আজ পর্যন্ত ভাতা বৃদ্ধির নথি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়নি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সংগঠনটি আরও জানায়, ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা না হলে, ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস সোসাইটির নেতৃত্বে আগামী ২২ ডিসেম্বর থেকে সারা বাংলাদেশে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি চিকিৎসকগণ কর্মবিরতি পালন করবে। এছাড়াও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈষম্য দূর করতে এবং ভাতা বৃদ্ধির যৌক্তিক দাবি ও তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ২২ ডিসেম্বর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত