জাহাজে ৭ জনকে গলা কেটে হত্যা

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:১৭ এএম

চাঁদপুরের মেঘনায় থেমে থাকা একটি লাইটার জাহাজ থেকে পাঁচজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মুমূর্ষু অবস্থায় আরও তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলে পথে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। জাহাজে থাকা আটজনের মধ্যে বাকি একজন মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গতকাল সোমবার বিকেলে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার মাঝেরচর এলাকায় এমভি আল বাখেরা নামে লাইটার জাহাজে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুরের নৌ পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান।

নৌ পুলিশ সুপার বলেন, দুপুরে ৯৯৯ থেকে খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। এ সময় পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং তিনজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় স্পিডে বোটে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পাঠানো হয়। তিনি আরও বলেন, লাইটার জাহাজটি মূলত চট্টগ্রামের কাপ্পো থেকে সারবোঝাই করে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ির দিকে যাচ্ছিল। উদ্ধার করা মরদেহে প্রত্যেকের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এমভি আল বাখেরা নামে লাইটার জাহাজটি মেসার্স বৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের। এই প্রতিষ্ঠানের অন্য জাহাজ মুগনি-৩-এর মাস্টার বাচ্চু মিয়া ও গ্রিজারম্যান মো. মাসুদ জানান, জাহাজের মাস্টার কিবরিয়া, ইঞ্জিনচালক সালাউদ্দিন, সুকানি আমিনুল মুন্সি, গ্রিজার সজিবুল, আজিজুল ও মাজেদুল ইসলামকে হত্যা করা হয়েছে। অন্য একজনের নাম জানা যায়নি। আর আহত ব্যক্তি হলেন জুয়েল। আহত ও নিহত ব্যক্তিদের বাড়ি নড়াইল জেলায়। তারা জানান, সার বহনকারী আল বাখেরা গত রবিবার সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসে। এরই মধ্যে কোম্পানির মালিক শিপন বাখেরাহ জাহাজে ফোন করে কাউকে পায়নি। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় মুগনি জাহাজ থেকে যোগাযোগ করার জন্য বলে। ওই সময় মুগনি জাহাজটি মাওয়া থেকে ঘটনাস্থল দিয়ে অতিক্রম করার সময় বাখেরা জাহাজটি দেখতে পায়। ওই সময় তারা জাহাজের লোকদের রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ৯৯৯ কল দেয়।

চাঁদপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান বলেন, হাসপাতালে নিয়ে আসা তিনজনের মধ্যে দুজন মৃত অবস্থায় ছিল, বাকি একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, জাহাজের কোনো মালপত্র লুট হয়নি। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত