১৫ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ চায় সিপিবি

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৩২ এএম

যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু সংস্কার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন চেয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। দলটির শীর্ষনেতারা বলেন, এটি বিপ্লবী সরকার নয়। আবার নির্বাচিত সরকারও নয়; সুতরাং বিশেষ কিছু জায়গায় সংস্কার করে নির্বাচনমুখী হতে হবে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আয়োজন করে নির্বাচিতদের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হবে। এটি এ সরকারের প্রধানতম কাজ। ১৫ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা চায় তারা।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সিপিবি আয়োজিত ‘ঢাকা সমাবেশে’ দলটির শীর্ষনেতারা এ কথা বলেন।

সিপিবি সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, অন্তর্র্বর্তী সরকারের কর্তব্য হচ্ছে নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা। নির্বাচন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন দিয়ে জনগণের রায় সেখানে নিয়ে আসেন। সংবিধানে পরিষ্কার লেখা আছে প্রজাতন্ত্রের মালিক হলো জনগণ। আপনারা যদি বিশ্বাস করেন প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ, জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেন। সব সমস্যার সমাধান সেখানেই হবে। তিনি আরও বলেন, সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্যে আমাদের সংবিধানে কিছু কিছু পরিবর্তন দরকার। কীভাবে পরিবর্তন করা হবে সেটাও সংবিধানে আছে। শেখ হাসিনা এটা বাতিল করে দিয়েছিল। পরে হাইকোর্টের অর্ডারে সেটা আবার পুনঃস্থাপিত হয়েছে। সুতরাং কোনো ভয় নেই, মানুষের ওপর ছেড়ে দেন।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের নামকে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সব ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে এবং মুক্তিযুদ্ধের আওয়ামী বয়ান, সেটা একটা মিথ্যা বয়ান। সেটা একটা কুৎসিত বয়ান। সেটাকে ব্যবহার করেছে লুটপাটের জন্য। আমরা আওয়ামী বয়ানের কবর চাই, কিন্তু সেই কারণে মুক্তিযুদ্ধকেও যদি কবর দিতে আসেন আরেকবার প্রস্তুত হয়ে যান। আমরা অস্ত্র জমা দিয়েছি, ট্রেনিং জমা দিইনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মতো আমরা আবার গর্জে উঠব। তিনি বলেন, অনেকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ অনেক কথা বলার চেষ্টা করছেন। জামায়াতে ইসলামী এখন মাঠে নেমেছে। আমি তো বলব ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর এ মাঠে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) যে আত্মসমর্পণের দলিল হয়েছিল সেখানে পরিষ্কার করে লেখা ছিলÑ ‘আমরা পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও অন্যান্য অক্সিলারি ফোর্সসহ নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করিলাম।’ পাকিস্তানের পলিটিক্যাল অক্সিলারি ফোর্স হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। সুতরাং ১৬ ডিসেম্বরই এটা নিষিদ্ধ হয়ে গেছে।

কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। আইনশৃঙ্খলার অবনতি, মব জাস্টিস, দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতি, প্রশাসনে অস্থিরতা সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। সবকিছু মিলিয়ে দেশের পরিস্থিতি খুবই নাজুক। দেশটি গোলকধাঁধার ভেতর আছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ আরও সংকটে পড়বে। এর থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার তারিখ ঘোষণা করা।

সরকারের কাছে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবি জানিয়ে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, টাইম ফ্রেম করেন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলেন। কথা বলে যতটুকু ঐকমত্য করা যায় কাজ শুরু করেন। কী কী করবেন বলেন। কিন্তু জরুরি কাজ হলো আর একমুহূর্ত দেরি না করে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেন। এটার কোনো বিকল্প নেই।

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, পতিত স্বৈরাচার একটা অপশক্তি। কোনোভাবে তারা যাতে না আসতে পারে সেই ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে। একই সঙ্গে একাত্তরের ঘাতকচক্র, সাম্প্রদায়িক চক্র মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে বিতর্কিত করে। ৭২ সালের সংবিধানের কবর রচনার কথা বলে। এই অপশক্তি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা পরিষ্কার বলেছি, স্বৈরাচারকে আমরা আসতে দেব না। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মাথাচড়া দিয়ে উঠতে দেব না। বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামকে এগিয়ে নেব।

সমাবেশ থেকে জানানো হয়, ১০ জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ঐক্য গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ২০ জানুয়ারি পল্টন হত্যাকাণ্ড দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মরণ ও শপথ গ্রহণ করা হবে। ২০ থেকে ২৭ জানুয়ারি দেশব্যাপী ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করা হবে। এ সময়কালে সারা দেশে অন্তত এক হাজার কিলোমিটার পদযাত্রা হবে। সিপিবির কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণসংযোগ করবেন। এ ছাড়া সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচিতে সারা দেশে সভা-সমাবেশ, হাটসভা, জনসভা, মানববন্ধন ইত্যাদি হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত