৯ বছরের প্রধানমন্ত্রীত্বের অবসান ঘটালেন কানাডার লিবারেল পার্টির নেতা জাস্টিন ট্রুডো। নিজ দলের ভেতর ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানী অটোয়ায় নিজ বাসভবনের বাইরে এক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।
জাস্টিন ট্রুডো নাটকীয় উত্থান ও পদত্যাগের মধ্যে ফিরে এসেছে ৫২ বছর আগের একটি ঘটনা। ১৯৭২ সাল তখন। অটোয়ায় রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়েছেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন। কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডোর সঙ্গে নিক্সনের রাজনৈতিক সম্পর্ক মধুর ছিল না। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নিয়েছিলেন তারা।
সেই ভোজসভায় প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডোর সঙ্গে অংশ নেন তার পরিবারের সদস্যরাও। ভোজসভায় অংশ নেওয়া সবচেয়ে কম বয়সী সদস্য ছিলেন জাস্টিন ট্রুডো। মায়ের কোলে থাকা ট্রুডোর বয়স তখন মাত্র ৪ মাস। কিন্তু এই কোলের শিশুটিই দৃষ্টি কাড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। ছোট্ট ট্রুডোর দিকে তাকিয়ে রিচার্ড নিক্সন হঠাৎ বলে উঠেন ‘এই শিশুটি একদিন কানাডার প্রধানমন্ত্রী হবে।’
এর ঠিক ৪৩ বছর পর মজাচ্ছলে করা সেই ভবিষ্যদ্বাণী মিলে যায়। সত্যি সত্যিই কানাডার প্রধানমন্ত্রী হন জাস্টিন ট্রুডো। ২০১৫ সালের ৪ নভেম্বর কানাডার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন একজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হন যার বাবাও ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ট্রুডোর দল লিবারেল পার্টি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছিল।
সে সময় এই নিরঙ্কুশ বিজয়ের ঘটনা মোটেও স্বাভাবিক ছিল না। প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো দলটিকে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় নিয়ে আসতে তরুণ জাস্টিন ট্রুডোর ক্যারিশমাটিক উত্থানই প্রধান ভূমিকা রেখেছিল।
ভারতের সঙ্গে বিরোধই কি ট্রুডোর এমন পরিণতির কারণ?
পদত্যাগের কথা সন্তানদের একদিন আগেই জানিয়েছেন ট্রুডো
অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা জাস্টিন ট্রুডোর