ইউরোপের দেশ মাল্টার নাগরিকত্ব চেয়ে আবেদন করেছিলেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকের স্ত্রী শাহীন সিদ্দিক। ২০১৩ ও ২০১৫ সালে দুই দফায় তিনি এ আবেদন করেছিলেন। তবে অর্থপাচার, দুর্নীতি, প্রতারণা ও ঘুষের অভিযোগ থাকায় তার দুটি আবেদনই প্রত্যাখ্যান করা হয়।
অপরদিকে তাদের মেয়ে বুশরা সিদ্দিকের নাগরিকত্বের আবেদনও খারিজ করে দেশটির নাগরিকত্ব-বিনিয়োগ প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্বে থাকা হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স। ফাঁস হওয়া নথির বরাত দিয়ে শুক্রবার এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।
তারিক আহমেদ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের চাচা। বাংলাদেশ গত বছরের অক্টোবরে তারিক ও শাহীনের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করে। জোরপূর্বক গুমের অভিযোগে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে তারিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এর আগে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের অভিযোগে বলা হয়, শাহীনের নেতৃত্বাধীন প্রচ্ছায়া নামের একটি প্রতিষ্ঠান ঢাকায় মূল্যবান জমি দখল করে। শাহীন ২০১৩ সালের পাসপোর্ট আবেদনে প্রচ্ছায়ার চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের ভূমিকা উল্লেখ করেছিলেন। অপরদিকে ২০১৫ সালের যৌথ আবেদনে তার মেয়ে বুশরাও (ইংল্যান্ডের নাগরিক) ছিলেন। তিনিও প্রচ্ছায়ার পরিচালক হিসেবে কাজ করতেন।
২০১৫ সালের মার্চে করা যৌথ আবেদন অনুযায়ী, শাহীন ও বুশরার নাগরিকত্বের জন্য যথাক্রমে সাড়ে ৬ লাখ ইউরো এবং ২৫ হাজার ইউরো খরচ হত। পাশাপাশি হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সকে দিতে হত ৭০ হাজার ইউরো ফি। আবেদনটি করার সময় শাহীন কুয়ালালামপুরের একটি ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট দেখিয়েছিলেন, যেখানে ২৭ লাখ ৬০ হাজার ৪০৯ ডলার ছিল। এই অর্থ দুই মাসে ১১টি লেনদেনের মাধ্যমে জমা করা হয়েছিল। কিন্তু এর উৎস উল্লেখ করা হয়নি।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান জানান, বাংলাদেশে মুদ্রা সরবরাহের বিধিঅনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি এক বছরে ১২ হাজার ডলারের বেশি দেশের বাইরে নিতে পারেন না। বুশরা তখন লন্ডনে পড়াশোনা করছিলেন এবং তার ঠিকানা ছিল সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশনের কাছে একটি গথিক ভবনের দ্বিতীয় তলায়।
এদিকে শাহীনের প্রথম নাগরিকত্ব আবেদন সরাসরি বাতিল হয়ে যাওয়ার কারণ গণমাধ্যমে প্রচ্ছায়ার বিরুদ্ধে অর্থপাচার, দুর্নীতি, প্রতারণা ও ঘুষ সংক্রান্ত অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৫ সালের আবেদনে প্রচ্ছায়ার পরিবর্তে শাহীন তার প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘দ্য আর্ট প্রেস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর নাম উল্লেখ করেন। শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালের শেষের দিকে ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যায়, শাহীন ও তার মেয়ে বুশরা দুজনেই নাগরিকত্ব পাননি।
পুত্রবধূর হাতের রান্না খেয়ে উৎফুল্ল খালেদা জিয়া
শাহ আমানতে আবারও ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যয়