কাবিলাকে ক্যাশ করতে চাইনি

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৫, ০৩:০৫ এএম

অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশ। কাবিলা নামেই ভক্তদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু পলাশ ধীরে ধীরে নিজেকে অভিনেতা পলাশ হিসেবে গড়ে তুলছেন, সমান্তরালভাবে নির্মাণও করছেন। গত বছর ‘সন্ধ্যা ৭টা’ নামের একটি নাটক বানিয়ে সমালোচকদের তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। জিয়াউল হক পলাশের সঙ্গে অভিনয় ও অভিনয়ের বাইরের বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন মাহতাব হোসেন

নতুন বছর, নতুন কাজ

নতুন একটা কাজ করলাম। এটা একটা ওয়েব ফিল্ম। নির্মাণ করেছেন তানিম রহমান অংশু। নাম খালিদ। আমি এখানে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছি। খালিদ চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে আমি নিজেকে বদলেছি। যারা আমাকে কাবিলা পলাশ হিসেবে চেনে তারা আমাকে এখানে সেই চরিত্র কিংবা সেই টোন পাবে না। এটি একটি সিনেম্যাটিক ড্রামা, যেখানে আমাকে দেখা যাবে অ্যাকশন হিরো হিসেবে। শুধু এই চরিত্রের ভেতর প্রবেশ করতে গিয়ে আমি অনেকটা সময় নিয়েছি। শিখতে হয়েছে ফাইট, শিখেছি নাচ।

যে কারণে কম নাটকে

ব্যাচেলর পয়েন্ট ধারাবাহিক দিয়ে যে জনপ্রিয়তা আমি পেয়েছি সেটাকে আমি কখনোই ক্যাশ করতে চাইনি। যখন অভিনয় শুরু করেছি, তখন চেয়েছি অভিনেতাই হতে। অভিনেতা হতে গিয়ে আমি বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নই। ব্যাচেলর পয়েন্ট-এর পরে আমি বছরে অন্তত ২০টা নাটক করতে পারতাম। পারতাম অনেক ধারাবাহিক করতে কিন্তু আপনারা খেয়াল করবেন আমি কোনো ধারাবাহিক করিনি। আমাকে আবার ধারাবাহিকে দেখা যাবে ব্যাচেলর পয়েন্টেই।

চরিত্রই সামনে

গত বছর আমি মাত্র ৬টা নাটকে কাজ করেছি। প্রতিটি গল্প আমি বেছে, যাচাই করে পড়ে তারপর কাজ শুরু করেছি। যখন মনে হয়েছে আমার অভিনয়ের সুযোগ রয়েছে সে সব কাজই করেছি। আগেই বলেছি যে অনেক নাটক করতে পারতাম, কিন্তু আমার কাছে গল্প ও চরিত্রের গুরুত্ব অনেক। ফলে গত বছরে যে ক’টি নাটকে অভিনয় করেছি প্রত্যেকটি ভালো নাটক। আর আমি নিজেও কাজ করতে চাই একেবারে ফ্রেশ গল্প, ফ্রেশ ডিরেক্টর যারা গল্প নিয়ে চিন্তা করতে পারে এমন।

নির্মাতা পলাশ

আমি একটা নাটক গত বছর নির্মাণ করেছি, সন্ধ্যা ৭টা। এই নাটকটা আপনারা জানেন নব্বই দশকের সন্ধ্যার সময়কালটাকে আমি ফ্রেমে আটকানোর চেষ্টা করেছি। দর্শকরা বলেছেন, জানিয়েছেন প্রতিক্রিয়া। আমি যখন নির্মাতা হিসেবে কাজ শুরু করতে চাই, তখন আমি সেটার মধ্যেই শতভাগ মনোযোগ নিবদ্ধ করি। কারণ আমার মতো অভিনয়শিল্পী যখন একটা কিছু নির্মাণ করতে যায়, তখন অনেকেই সেদিকে খেয়াল রাখে, জিনিসটা দেখে এই কারণে যে দেখি এই অভিনেতা কী বানাল। ফলে এ বছরও যদি বানাই ঠিক একইভাবে করব। একটা ওয়েব সিরিজের কাজ এরইমধ্যে করেছি। এটার জন্যও দীর্ঘ পরিশ্রম হয়েছে। কেননা গল্পের লেয়ার অনেকগুলো, কাজগুলোও চ্যালেঞ্জিং।

মানুষের জন্য পলাশ

আমাদের দেশে সে অর্থে কোনো অভিনয়শিল্পীর রেখে যাওয়া দাতব্য প্রতিষ্ঠান কিন্তু লম্বা সময় টিকে থাকেনি। আমার প্রতিষ্ঠান ডাকবাক্স এখন পর্যন্ত মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আমি চাই আমার মৃত্যুর পরও এই প্রতিষ্ঠানটি টিকে থাকুক। আমি সেভাবেই এটার পেছনে সময় ও শ্রম দিচ্ছি। আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই, আমার কিছু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে অনেকেই কাজ করে, করবে। সামনে যেন অনেক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা যায় সেভাবে এগোচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত