বলিউড তারকা সাইফ আলী খানের ওপর হামলাকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হওয়ার দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযুক্তের আইনজীবী সন্দীপ শেখানের দাবি, আসামি মুহম্মদ শরিফুল ইসলাম শেহজাদ যে বাংলাদেশি তার কোনো প্রমাণ নেই পুলিশের কাছে।
সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, রবিবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে থানের হিরানন্দানি এস্টেট থেকে শেহজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপরই পুলিশ জানায়, ছয় মাস আগে সে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, শরিফুল একাধিক ছদ্মনাম ব্যবহার করে দেশটিতে বসবাস করছিলেন। চুরির উদ্দেশ্যে তিনি সাইফের বাড়িতে প্রবেশ করেন। ওই সময়ই ছুরি হামলার ঘটনা ঘটে। তবে শরিফুল জানতেন না তিনি বলিউড তারকার বাড়িতে প্রবেশ করেছেন।
তবে শেখানে এই অভিযোগ অস্বীকার করে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, তার মক্কেল ৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিবারের সঙ্গে মুম্বাইয়ে বসবাস করছেন।
আইনজীবী সন্দ্বীপ বলেন, ‘শেহজাদকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজত দেওয়া হয়েছে এবং আদালত এই সময়ের মধ্যে পুলিশকে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তিনি যে বাংলাদেশি, এর পক্ষে কোনো প্রমাণ পুলিশের কাছে নেই। ছয় মাস আগে তিনি এখানে এসেছেন পুলিশের এমন দাবিও মিথ্যা। এটি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৩-এ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কারণ এই মামলায় সঠিক তদন্ত করা হয়নি।’
একই সঙ্গে আলোচিত এই মামলায় পদ্ধতিগত ত্রুটিরও অভিযোগ করেছেন আইনজীবী সন্দ্বীপ শেখানে। এছাড়া যে কারণে অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজত দেওয়া হয়েছে, সেটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
আইনজীবী সন্দ্বীপ শেখানে বলেন, মামলায় ফাঁক-ফোকর আছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী নোটিশ জারি হয়নি। পুলিশি হেফাজত দেওয়া হলেও রিমান্ড কপি বা এফআইআর কপিতে জীবনের হুমকি বা হত্যার হুমকির কোনো উল্লেখ নেই। তা সত্ত্বেও ধারাগুলো যুক্ত করা হচ্ছে। এই ঘটনায় হত্যার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না
অভিযুক্তের আর এক আইনজীবী দীনেশ প্রজাপতিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার মক্কেল পরিবারের সঙ্গে মুম্বাইয়ে বসবাস করছেন।
প্রজাপতি বলেন, ‘পুলিশ হেফাজতের দাবি জানিয়েছিল, কিন্তু যে ভিত্তি দেওয়া হয়েছিল তা দুর্বল। আত্মপক্ষ সমর্থনে আমরা যুক্তি দিয়েছি— আসামির কাছ থেকে কিছুই উদ্ধার করা হয়নি এবং পুলিশ এমন কোনো নথি উপস্থাপন করতে পারেনি যা প্রমাণ করে যে তিনি বাংলাদেশি নাগরিক। তা সত্ত্বেও পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভোরে বান্দ্রার বাড়িতে সাইফ আলি খানের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ আসামি মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম শেহজাদ খানের অভিজাত বাড়িতে ঢুকে তাকে ছুরি দিয়ে একাধিক আঘাত করে।
এতে অভিনেতা তার ঘাড়ে এবং মেরুদণ্ডের কাছাকাছি আঘাত পেয়েছেন। বর্তমানে অভিনেতা মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কিনা এবং শেহজাদের কোনো সহযোগী ছিল কিনা তা পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে।
পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গায় ডুবে গেল বাংলাদেশি জাহাজ
শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক এমপির মৃত্যু
‘ঊর্ধ্বতন কারও কমান্ড পালনের জন্য তিনি চাকরি হারাতে পারেন না’