দুইদিনেও উদঘাটন হয়নি খুবি শিক্ষার্থী অর্ণব হত্যার রহস্য

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৩০ পিএম

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ছাত্র অর্ণব কুমার সরকারকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে শনিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে খুলনার সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা নিতীশ কুমার সরকার। তবে ঘটনার দুইদিন অতিবাহিত হলেও হত্যার কারণ উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। 

অন্যদিকে খুলনায় সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও পুলিশ-প্রশাসনের উদাসীনতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা। রবিবার নগরীর রয়েল মোড়ে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা হত্যাকারীদেও গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।

সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত অর্ণবের বাবা নিতীশ কুমার সরকার অজ্ঞাত ২০-২৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। এর আগে অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে সম্পৃক্ততা না থাকায় দুইজনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে রাব্বানির কথাবার্তা অসংলগ্ন থাকায় তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মোবাইলে শেষ কলটি অর্ণবকে গোলাম রাব্বানি দেয় এবং তাকে ডেকে শেখপাড়া তেতুলতলা মোড়ে আসতে বলে। 

আদালত সূত্র জানায়, গোলাম রব্বানিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চাইলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-১ এর বিচারক মো. রাকিবুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। গোলাম রব্বানিকে আদালত আগামী ৯ মার্চ পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসনের ছাত্র অর্ণবকে নগরীর শেখপাড়া তেঁতুলতলা মোড়ে সন্ত্রাসীরা প্রথমে গুলি ও পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। 
এদিকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে গত সাড়ে পাঁচ মাসে নগরী ও জেলায় ১১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হওয়ায় খুলনা এখন আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব বাবুল হাওলাদার বলেন, রাত হলে সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। আত্মগোপনে ও কারাগারে থাকা অনেক সন্ত্রাসী-চরমপন্থি জামিন পেয়ে এলাকায় ফিরেছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সক্রিয়। কিন্তু পুলিশ এখনো পুরোপুরি সক্রিয় হয়নি।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দার বলেন, ১২ শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করতে পারলে পুলিশ সদস্যদের ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা ছিল। ইতিমধ্যে চারজনকে ধরা সম্ভব হয়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত