বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, ছায়ানট-এর প্রতিষ্ঠাতা ওয়াহিদুল হকের পুরো নাম আবুল ফাতাহ মোহাম্মদ ওয়াহিদুল হক। তিনি ১৯৩৩ সালের ১৬ মার্চ কেরানীগঞ্জ উপজেলার ভাওয়াল মনোহারিয়া গ্রামে একটি সংস্কৃতিমনা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মাজহারুল হক ও মা মেওয়া বেগম। মাজহারুল হক ১৯৪৬ সালে বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হন। ওয়াহিদুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। কর্মজীবন শুরু ১৯৫৬ সালে ‘দি ডেইলি মর্নিং নিউজ’ পত্রিকার মাধ্যমে। পরে তিনি পিপল, উইকলি ওয়েব, ডেইলি নিউ নেশন ও ডেইলি স্টারে সাংবাদিকতা করেছেন। শেষ বয়সে তিনি দৈনিক জনকণ্ঠ ও দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকায় কলাম লিখতেন। তার জনপ্রিয় কলাম ছিল ‘অভয় বাজে হৃদয় মাঝে’। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগেও কিছুদিন খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে আইয়ুব সরকারের রবীন্দ্রবিরোধী তৎপরতার বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সমমনস্কদের নিয়ে ‘ছায়ানট’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮০ সালে তিনি ‘জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ’ প্রতিষ্ঠা করেন। ‘কণ্ঠশীলন’ নামের আবৃত্তি সংগঠন গড়ে তোলেন। তার একটি মাত্র রবীন্দ্রসংগীতের অ্যালবাম রয়েছে ‘সকল কাঁটা ধন্য করে’ নামে। তিনি ‘গানের ভিতর দিয়ে’, ‘চেতনা ধারায় এসো’ ও
‘সংস্কৃতি জাগরণের প্রথম সূর্য’ নামের তিনটি সংগীতবিষয়ক প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন। ১৯৭১ সালে তিনি ‘স্বাধীন বাংলা শিল্পী সংস্থা’ গড়ে তোলার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনেও তার অবদান ছিল। ২০০৭ সালের ২৭ জানুয়ারি তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।॥
