সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই জনঅভ্যুত্থান সংঘটনের অন্যতম অনুঘটক ছাত্র নেতৃত্বের তরফ থেকে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন ধরনের হুঁশিয়ারি ও সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে, বিগত পনেরো বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের ধারক-বাহকদের প্রতি। বিগত পনেরো বছর রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে থাকা অন্যতম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক করা হচ্ছে জুলাই জনঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষার ব্যত্যয় না ঘটাতে। জনগণকে আহ্বান জানানো হচ্ছে, জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় চোখ-কান খোলা রাখতে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের সমর্থনে আয়োজিত গণসংযোগ ও পথসভায় দেওয়া
বক্তৃতায় (সূত্র: প্রথম আলো, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন গণমাধ্যম এবং আওয়ামী লীগের পক্ষে বয়ান তৈরির কারিগর ‘বুদ্ধিজীবী’দের প্রতি। বলেছেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মানবাধিকারের জন্য লড়াই করলে সেটি হবে ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা। আর ফ্যাসিবাদের পক্ষে যেসব কলম দিয়ে লেখা হবে, সেগুলো ভেঙে দেওয়া হবে। যেসব টক-শো, যেসব মিডিয়াপাড়া, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী আওয়ামী লীগের মানবাধিকারের জন্য লড়াই করছেন; আপনারা এ ফ্যাসিবাদের তেল নুন ঘি খেয়ে এতদিন পর্যন্ত ফ্যাসিবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন। ফ্যাসিবাদের পক্ষে যে কলমগুলো দিয়ে লিখবেন, সেই কলমগুলো ভেঙে দেব। ফ্যাসিবাদের পক্ষে যেসব মিডিয়া কথা বলবে, সেসব মিডিয়ার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে। ফ্যাসিবাদের পক্ষে যেসব মগজ চিন্তার প্রসার ঘটাবে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের শক্ত অবস্থান থাকবে।’
সতর্ক করেছেন সেইসব রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বকে, যারা অদূর ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চাচ্ছেন তাদের প্রতি। বলেছেন, ‘প্রজন্মের আকাক্সক্ষা বুঝতে ব্যর্থ হলে আওয়ামী লীগের মতো পরবর্তী সময়ে যারাই নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আসবে, তাদেরও একই পরিণতি হবে।’ তিনি দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে বিচারের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করবার। বলেছেন, ‘তাদের বিচার নিশ্চিত না হওয়ার জন্য যারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের কথা বলবে, যারা বলবে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে না, আমরা ধরে নেব আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের ইন্ধন ছিল।’ ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রতিটি রাজনৈতিক দল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ফ্যাসিবাদবিরোধী মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাশক্তি রয়েছে, সব কটির সংমিশ্রণে পরবর্তী বাংলাদেশের বিনির্মাণ করবার কথা বলেছেন। জুলাই জনঅভ্যুত্থানের স্মারক প্রতিটি জিনিসের দালিলিক স্বীকৃতির পাশাপাশি অবিলম্বে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণা দেওয়ারও দাবি করেছেন তিনি। হাসনাত আবদুল্লাহর উপরোক্ত হুঁশিয়ারি, সতর্কবার্তা ও দাবিসমূহের পরিপ্রেক্ষিত পর্যালোচনার প্রথমেই দেখা যাক, কেন তিনি গণমাধ্যম ও বয়ান তৈরির কারিগরি যারা করেছেন, সেইসব ‘বুদ্ধিজীবী’কে হুঁশিয়ার করলেন। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, দেশটিকে ‘গণতন্ত্রের মোড়কে’ সব থেকে বেশি সময় শাসন করেছে আওয়ামী লীগ। পাকিস্তানকেন্দ্রিক সত্তরের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারের সমর্থন নিয়ে প্রথম রাষ্ট্র পরিচালনার অধিকার অর্জন করে এই দলটি। যদিও সে সময়ের পাকিস্তানের সেনাশাসকরা সেই অধিকার না দেওয়াতে পূর্ব পাকিস্তান অংশের সাধারণ মানুষ সশস্ত্র জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে সেই অধিকার পাইয়ে দেয় আওয়ামী লীগকে। ফলস্বরূপ বিশ্ব মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম একটি জাতিরাষ্ট্রের বাংলাদেশ। এই জাতিরাষ্ট্রের জন্ম প্রক্রিয়ার নানা সংগ্রাম আর লড়াইয়ের অগ্রভাগে থাকতে গিয়ে আওয়ামী লীগকে পাল্টাতে হয়েছে তার ‘বাহ্যিক’ খোলস। এই বঙ্গের মানুষের অসাম্প্রদায়িক থাকবার প্রয়াসকে আমলে নিতে গিয়ে নিজেকে হতে হয়েছে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ থেকে আওয়ামী লীগ। স্বীকৃতি ও পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হয়েছে পাকিস্তানি শাসকদের ধর্মভিত্তিক ও সাম্প্রদায়িক শাসনজাত বুদ্ধিবৃত্তিক বয়ানের বিরুদ্ধে ভাষা ও জাতীয়তাবাদভিত্তিক একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বয়ান তৈরিতে। আর এমনটা করতে গিয়ে দলটির নেতৃত্বের মনোজগতে তৈরি হয় অপরায়নের বয়ান। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এই বয়ান তৈরির প্রক্রিয়ার অংশীজন তথা গণমাধ্যম ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় নিয়োজিত বিশেষ মানুষগুলোও নিজেদের অভিযোজিত করে ফেলে অপরায়নের সংস্কৃতিতে। যা অনেক বেশি এককেন্দ্রিক হয়ে ওঠে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও তৎপরবর্তী সময়ে।
বুদ্ধিবৃত্তিক বয়ান তৈরির কারিগরদের মধ্যে অধিকাংশই যারা কিনা স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পাটাতন নির্মাণে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন তারা তো মেনেই নেন যে, ‘আওয়ামী লীগ’, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘অসাম্প্রদায়িকতা’, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ এসব সমার্থক ও একইসূত্রে গাঁথা। মুখ্যত এমন বয়ানেই এগোতে থাকে স্বাধীনতা-পরবর্তী ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ ঋদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ধরেই নেয়, পাকিস্তান-বিরুদ্ধ আন্দোলন সংগ্রামের ফসল এসব প্রপঞ্চের একমাত্র মালিক তারাই, অন্য কেউ এগুলোর মালিক হতে পারে না। আর এমনতর সংস্কৃতির বাইরের যে কোনো অবস্থানকে ট্যাগিং করা হয় ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরুদ্ধ’, ‘সাম্প্রদায়িক’, ‘মৌলবাদিতা’, এমনকি অনেক সময় চিহ্নিত করা হয় পাকিস্তানপন্থি হিসেবে। বাস্তবতা কি তাই! শুধু বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাতেই সীমিত থাকেনি এমনিতর বয়ান প্রোথিত করবার রাষ্ট্রিক ও দলীয় প্রয়াস। জনগণের বিকল্প সংসদ ও রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে খ্যাত ও স্বীকৃত সংবাদমাধ্যমও জড়িয়ে পড়ে শাসকদের ক্ষমতা সংহতকরণের অন্যতম হাতিয়ার এই অপরায়নের বয়ান তৈরি ও তা প্রচার প্রসারণের কাজে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এরশাদ স্বৈরাচার বিরুদ্ধতার সময়টা বাদ দিলে গেল চুয়ান্ন বছরের কথিত গণতান্ত্রিক এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সেনাশাসনেও সংবাদমাধ্যমের এমন ‘অপরায়নের সাংবাদিকতা। অপরায়নের এই সংস্কৃতি সংহত রূপ নেয় বিগত পনেরো বছরের আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন কর্তৃত্ববাদী শাসন-শোষণে। শাসনতান্ত্রিক নৈরাজ্যের ধারাবাহিকতায় চরম মাত্রা যুক্ত করা, উন্নয়ন তথা অবকাঠামো নির্মাণ প্রক্রিয়ায় অবাধ আর্থিক তছরুপ, লুটপাট, টাকা পাচার, জনমনে ভয়ের সংস্কৃতি নির্মাণ, ভোটব্যবস্থার কবর রচনা, আমলাতন্ত্রের রাজনীতিকীকরণ, সবমিলিয়ে আর্থ-রাষ্ট্রিক দুর্বৃত্তায়নের এক মহারণে মেতে ওঠে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ। সেইসঙ্গে নিজেদের এমনিতর সব ‘অদম্য’, ‘অপ্রতিরোধ্য’ উন্নয়ন অগ্রযাত্রার বহুল প্রচার নিশ্চিত করতে জন্ম দেয় এক প্রকার সাংঘাতিক রকমের একপেশে ও অপরায়নের সংবাদমাধ্যম। বেশিরভাগ সময়েই সরকার কর্র্তৃক সরবরাহ করা মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত তথ্যসমৃদ্ধ সংবাদ নির্মাণ প্রয়াসে সাংবাদিকতা ভিন্নরকম হয়ে ওঠে। নানা অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে সাংবাদিকদের বিরাট একটি অংশকে পরিণত করা হয় দলীয় নেতাকর্মীতে। সেই সুযোগে অনেক কথিত বড় সাংবাদিকরাও দল ও দলসংশ্লিষ্ট নানা সংগঠনের পদ-পদবিতেও অলঙ্কৃত করেন নিজেদের।
সংজ্ঞায়নের দিক থেকে শাসকগোষ্ঠীর এমনিতর বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্বৃত্তায়নকে ‘ফ্যাসিবাদ’ বলা সংগত হবে কি না সে নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। তবে এই শাসন-শোষণ নিশ্চিতের লক্ষ্যে অপরায়নের এই বয়ান নির্মাণ ও তার প্রচার-প্রসারণ যে দেশের মানুষের ওপর চেপে থাকা জগদ্দল এক পাহাড়সম সেটি অস্বীকার করবার জো নেই। যে শাসন-শোষণ উৎখাত করতে গিয়ে একাত্তর-পরবর্তী সময়ে সব থেকে বেশি রক্তমূল্য দিতে হয়েছে দেশের মানুষকে। সেই রক্তমূল্যকে যারা কটাক্ষ করেন, সেই রক্তমূল্যের ওপর দাঁড়িয়ে যারা আগের সেই পুরনো সাংবিধানিক শাসনে ফিরে যেতে চান, তাদের বিরোধিতা তো জুলাই জনঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষাজাত। সর্বোপরি ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে পরিত্যাজ্য সেই ‘অপরায়নের সংস্কৃতি’ ও আর্থ-রাষ্ট্রিক দুর্বৃত্তায়নের পক্ষের ফেরিওয়ালাদের বিরুদ্ধাচরণ তো এদেশের মানুষের ন্যায়সংগত অধিকার বটে। কিন্তু সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আবারও যদি আরেকমাত্রায় তৈরি করা হয় ‘অপরায়নের সংস্কৃতি’ সেটি হবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানজাত আকাক্সক্ষার পরিপন্থী। হাসনাত আবদুল্লাহ অবশ্য ক্ষমতাসীন তথা জুলাই অভ্যুত্থান পূর্ববর্তী সময়ের কর্র্তৃত্ববাদী শাসকদের ভিন্ন মত-পথের চর্চা ও বয়ানকে অস্বীকার করবার বয়ানের বিরুদ্ধেই আঙুল তোলেননি। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, আওয়ামী শাসন-শোষণের প্রতিহিংসার শিকার রাজনৈতিক দলগুলোকেও। বলেছেন, ‘প্রজন্মের আকাক্সক্ষা বুঝতে ব্যর্থ হলে আওয়ামী লীগের মতো পরবর্তী সময়ে যারাই নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আসবে, তাদেরও একই পরিণতি হবে।’ বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কোটা আন্দোলন দিয়ে শুরু হলেও জুলাই আন্দোলনের অনেক আগে থেকেই দেশে রাষ্ট্র পরিচালনার পথপদ্ধতির সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক আলোচনা ও আন্দোলনের উন্মেষ ঘটে। এ ক্ষেত্রে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং ‘রাষ্ট্রচিন্তা’ নামের একটি চিন্তা আন্দোলনের উদ্যোগে বাংলাদেশের সংবিধানের স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামোর বিলোপ ও রাষ্ট্রসংস্কার সম্পর্কিত নানা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রয়াস।
এসব প্রয়াসের প্রভাবে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ অনেকেই এই রাষ্ট্রটিকে প্রকৃত অর্থেই জনগণের করতে রাষ্ট্রসংস্কারকে অপরিহার্য বলে মেনে নেয়। এই অপরিহার্যতাকে মুখ্য বিবেচনায় নিয়ে জুলাই জনঅভ্যুত্থানজাত জনঅভিপ্রায়ের ফসল বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যেই সাংবিধানিক সংস্কারসহ রাষ্ট্রসম্পর্কিত বেশ কয়েকটি খাতে সংস্কার সুপারিশ প্রণয়ন করেছে। বলা হচ্ছে, এই সব সংস্কার সুপারিশই হবে আগামীর সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি। আর এই ভিত্তিভূমির রাষ্ট্রনৈতিক বৈধতা নিশ্চিত করতে একইসঙ্গে ‘গণপরিষদ ও সংসদ’ নির্বাচন অনুষ্ঠানের যৌক্তিকতাও লক্ষ করা যাচ্ছে। বলা হচ্ছে, ’৭০ সালের মতো এমনিতর নির্বাচনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই গঠন করবেন গণপরিষদ। যাকে গণসংস্কার পরিষদও বলা যেতে পারে। যারা অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত সংবিধান সংস্কার সুপারিশসমূহকে ভিত্তি ধরে আগামীর বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নতুন সংবিধান হিসেবে অনুমোদন করবেন এবং তারাই পরে আইনসভার সদস্য হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নেবেন। তবে এই নির্বাচন হতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সব রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে প্রণীত একটি কাঠামোর অধীনে। যা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রণীত আইনি কাঠামো হিসেবে পরিগণিত হবে।
আমরা লক্ষ করছি, দেশের অনেক রাজনৈতিক দল বিশেষ করে যারা এর আগে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে তাদের অনেকেই জুলাই জনঅভ্যুত্থানের উপরোল্লিখিত জনঅভিপ্রায়কে আমলে নিতে চাচ্ছেন না। সংগত কারণেই জনমনে শঙ্কা ও হতাশা তৈরি হচ্ছে যে, তাহলে কি এবারও রাষ্ট্র পরিচালনার ‘চাবি’ জনগণের হাতে আসছে না!
লেখক: সাংবাদিক ও সদস্য, রাষ্ট্রচিন্তা