বিপিএলের অভিষেক আসরের পর্দা উঠেছিল ২০১২ সালে। তখন থেকেই পারিশ্রমিক সমস্যায় বিতর্ক চলে আসছিল। ২০১২ সালে শুরু হওয়া এই ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্টে প্রায় প্রতি আসরেই ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক না পাওয়া নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। চলতি আসরে সেই সংকট আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউসিএ) প্রধান নির্বাহী টম মোফাট।
বিসিবির শর্ত অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ক্রিকেটারদের ৫০ শতাংশ পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা। তবে এবার রাজশাহীর ফ্র্যাঞ্চাইজি সেই নিয়ম মানেনি। চট্টগ্রাম পর্বে এসে দেখা যায়, দলটির স্থানীয় ক্রিকেটাররা ৬ ম্যাচ খেলেও পুরো পারিশ্রমিক পাননি। বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের হস্তক্ষেপে ২৫ শতাংশ নগদ এবং ২৫ শতাংশের চেক দেওয়া হলেও সেই চেকও পরে বাউন্স করেছে।
পারিশ্রমিক না পাওয়ায় রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের হুমকি দিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ, এনামুল হক বিজয়ের মতো ক্রিকেটাররা। মালিকপক্ষ চেক তুলে দেওয়ার পর দেশি ক্রিকেটাররা মাঠে নামলেও বিদেশি ক্রিকেটাররা সেই ম্যাচ বয়কট করেন।
রাজশাহীর পাশাপাশি চিটাগং কিংসেও পারিশ্রমিক সমস্যা দেখা দেয়। পারিশ্রমিক না পাওয়ায় পারভেজ হোসেন ইমন দল ছেড়ে চলে যান। দলটির কর্ণধার সামির কাদির চৌধুরিও অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন।
বিপিএলের দীর্ঘদিনের পারিশ্রমিক সংকট নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ডব্লিউসিএ প্রধান টম মোফাট। ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'বিপিএলে পারিশ্রমিক না দেওয়ার বিষয়টা হতাশাজনক। বারবার এমন ঘটনা অগ্রহণযোগ্য। বিসিবি এটার উন্নতি করতে পারছে না।'
মোফাট আরও যোগ করেন, 'খেলোয়াড়রাই টুর্নামেন্টের মূল আকর্ষণ। তাদের সুরক্ষার জন্য মৌলিক চুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। খেলোয়াড়রা আত্মবিশ্বাসী না হলে কোনো লিগের স্থায়িত্ব বা মান বজায় রাখা সম্ভব নয়।'
বারবার এমন পারিশ্রমিক সমস্যা টুর্নামেন্টের ভাবমূর্তিকে বড় আঘাত করছে। বিদেশি এবং স্থানীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বিসিবির উচিত দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, নইলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিপিএল নিয়ে নেতিবাচক বার্তা যেতে থাকবে।
