ত্বকে কোল্ড থেরাপি নিয়ে ভুল ধারণা

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০৬:৫৯ এএম

বরফের টুকরা পাতলা কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে চোখের নিচ ও মুখে আলতোভাবে ম্যাসাজ করাকে ‘কোল্ড থেরাপি’ বলে। কোল্ড থেরাপিতে আসলে কী হয়? ঠান্ডা তাপমাত্রা রক্তনালিগুলো সংকুচিত করে। এতে রক্ত সংবহনতন্ত্র আক্রান্ত স্থানে আরও উষ্ণ রক্ত পাঠাতে উৎসাহিত হয়। বাড়তি রক্তপ্রবাহ ফোলা এবং প্রদাহ কমায়, যা ফোলা চোখ এবং ক্লান্তি ভাব কমাতে সাহায্য করে। ত্বককে শান্ত ও দৃঢ় করে। অনেকের কাছেই ত্বক ভালো রাখতে এটা জনপ্রিয় পদ্ধতি। তবে বহু দিন ধরে বরফের ব্যবহার হয়ে থাকলেও তা নিয়ে রয়েছে নানান প্রচলিত ভুল ধারণা।  

প্রচলিত ধারণা বনাম বাস্তবতা

ধারণা ১ : বরফ ব্যবহার ত্বকের লোমকূপের ছিদ্র স্থায়ীভাবে হ্রাস করে।

বাস্তবতা : বরফের শীতলতা ত্বকের লোমকূপকে সংকুচিত করে ও ত্বক দেখতে টানটান লাগে। তবে এটা সাময়িক। ত্বকে বরফ ব্যবহার লোমকূপকে স্থায়ীভাবে কমায় না বরং সাময়িকভাবে সংকুচিত করে।

ধারণা ২ : বরফ ব্যবহারে চোখের কালচেভাব কমে।

বাস্তবতা : বরফ চোখের চারপাশের ফোলাভাব কমায় এবং টানটানভাব আনে। তবে তা কালো দাগ দূর করতে পারে না।

ধারণা ৩ : সব ধরনের ত্বকের জন্য মানানসই বরফ।

বাস্তবতা : বরফ সব ধরনের ত্বকে ও প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত নয়। বিশেষত, সংবেদনশীল ও খুব বেশি শুষ্ক ত্বকে ক্ষেত্রে। তাই ত্বকে সরাসরি বরফ ব্যবহার না করে ঠা-া ব্যবহার করা যেতে পারে। অনেকেই ব্রণের ওপর বরফ ব্যবহার করেন তা কমানোর জন্য। তবে এতে বরং প্রদাহ ও ব্রণের সক্রিয়তা বাড়ে। 

ধারণা ৪ : প্রতিদিন বরফ ব্যবহার উপকারী।

বাস্তবতা : সকালে চোখের ফোলাভাব, সতেজ মুখম-ল ও ত্বকের প্রাণবন্তভাবের জন্য সপ্তাহে একবার ত্বকে বরফ ব্যবহার ভালো ফলাফল দিতে পারে।

করণীয় ও বর্জনীয়

পরিষ্কার ত্বকে বরফ ভালোভাবে কাজ করে। পাতলা সুতির কাপড়ে মুড়ে বরফ ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে আলতোভাবে ত্বকে ম্যাসাজ করে ব্যবহার করতে হবে।

জোরে ঘষে বা চাপ দিয়ে বরফ ব্যবহার না করে বরং আলতোভাবে মালিশ করা এবং চোখের চারপাশে বরফ ব্যবহারে সাবধানী হওয়া উচিত। ত্বকে অল্প সময়ের জন্য গতিশীলভাবে বরফ ব্যবহার করতে হবে। নয়তো অতিরিক্ত ঠান্ডায় পোড়াভাব দেখা দিতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত