আরো দুই ম্যাচ হাতে ঢাকা ক্যাপিটালসের। কিন্তু ম্যাচ দুটি খেলতে নামার আগেই বিপিএলের প্লে-অফের দৌড় থেকে বিদায় হয়েছে শাকিব খানের ফ্র্যাঞ্চাইজির। আজ দিনের প্রথম ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে চিটাগং কিংস তাদের পয়েন্ট ঢাকার ধরাছোয়ার বাইরে নিয়ে গেছে। চিটাগং কিংসের পয়েন্ট ১০ ম্যাচে ১২। এর আগে দুর্বার রাজশাহীও ১২ ম্যাচ থেকে ১২ পয়েন্ট তুলে রেখেছে। ঢাকা আজকের ফরচুন বরিশাল, পরে খুলনা টাইগার্সকে হারালে সর্বোচ্চ ১০ পয়েন্ট পাবে।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৪৩ রান সংগ্রহ করে রংপুর। এরপর হায়দার আলীর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১৪ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নিয়ে মাঠ ছাড়ে চিটাগং। হায়দার তার স্বদেশী আকিফ জাভেদকে ১৭তম ওভারে টানা চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে চিটাগংকে জিতিয়েছেন। তিনি অপরাজিত ছিলেন শেষ পর্যন্ত ১৮ বলে ৪৮ রান করে।
মাঝারি লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি চিটাগংয়ের। লাহিরু মিলান্থা আউট হয়েছেন মাত্র ৬ রান করে। আর গ্রাহাম ক্লার্ক ফিরেছেন ১৫ রান করে। দুজনকেই আউট করেছেন আকিফ জাভেদ। পাওয়ার প্লেতে দলটির সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেট ২৯। দলটির হাল ধরতে পারেননি অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। তিনি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করছিলেন। তবে তিনি ১৫ বলে ২০ রান করেই ফিরেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে লাইন মিস করে স্টাম্প হারিয়ে। কদিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও পারভেজ হোসেন ইমন একপ্রান্ত আগলে রেখেই খেলছিলেন। দ্বারপ্রান্তে ছিলেন হাফ সেঞ্চুরির। ৪৩ বলে ৪১ রান করে এই ব্যাটার বোলার সাইফউদ্দিনের হাতেই ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন।
এরপর শামীম হোসেন পাটোয়ারি ৮ রান করে রান আউট হয়ে ফিরলেও চিটাগংকে আর উইকেট হারাতে দেননি হায়দার ও রাহাতুল ফেরদৌস। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন হায়দার। চতুর্থ ওভারে হায়দার চড়াও হন স্বদেশী পেসার আকিফের ওপর প্রথম বলেই লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা মারেন হায়দার। পরের বলে ছক্কাটি ছিল ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে। তৃতীয় ছক্কাটি এসেছে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে। আর ডিপ মিড উইকেটের ওপর দিয়ে চতুর্থ ছক্কা মেরে চিটাগংয়ের জয় নিশ্চিত করেন হায়দার। এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ইফতিখার আহমেদের অপরাজিত ৬৫ আর সৌম্য সরকারের ২৩ ও শেখ মেহেদীর ২২ রানের ইনিংসে লড়াইয়ের পুঁজি পায় রংপুর। রংপুরের এই সংগ্রহে বড় অবদান ছিল ইফতিখার ও মেহেদীর। এই দুজনে ষষ্ঠ উইকেতে ৪৭ বলে ৭৫ রানের জুটি গড়েছেন শেষ পর্যন্ত।
দুপুরে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রিত রংপুর রাইডার্স ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৫ উইকেটে ১৪৩ রান করতে পারে। ইফতিখার আহমেদ ৪৭ বলে ৭ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ৬৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। সৌম্য সরকার করেন ১৭ বলে ২৩। বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দেয়া স্পিনার আলিস আল ইসলাম ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান দেন।
প্লে অফ নিশ্চিত করার পর টানা তৃতীয় ম্যাচ হারে রংপুর রাইডার্সের প্রথম দুদলের মধ্যে থাকা কঠিন হয়ে পড়লো। শেষ ম্যাচেও যদি তারা হারে এবং কিংস শেষ দুই ম্যাচ জেতে তবে তাদের এলিমিনেটর খেলতে হতে পারে।
পারভেজ ইমন কি সামির কাদেরকে ‘সন্তুষ্ট’ করতে পারলেন?