শিল্প খাতের অবদান কমে ৮.৭৭%

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:২১ এএম

দেশে ২০২৪ সালে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৮ লাখ ৭৭ হাজার ৩৬৪টিতে, যা ২০১৩ সালে ছিল ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৫টি। এ হিসাবে ১১ বছরে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ৪০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯৯টি বা ৫১ দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়েছে। এর প্রভাবে শিল্প খাতের অবদান ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এর প্রতিবেদনে এ চিত্র ফুটে উঠেছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস সম্মেলনকক্ষে শুমারির প্রাথমিক ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থনৈতিক-সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের সভাপতি ড. কেএস মুর্শিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

বিবিএসের হিসাবে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশে উৎপাদন খাতে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ১২৭ কোটি টাকা। সর্বশেষ হিসাবে গত অর্থবছরে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৩২ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকায়। ১১ বছরে উৎপাদন খাতের উৎপাদনমূল্য প্রায় ৫ দশমিক ৭৫ গুণ বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকার প্রতিবছর গড়ে ১৪ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। এর মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরে করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ধস নামার বছরেও এই খাতে ৪ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছিল। এ ছাড়া প্রতিবছরই উৎপাদন খাতে ডাবল ডিজিট, এমনকি কোনো কোনো বছর ১৮ শতাংশ ছুঁইছুঁই প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে। এ সময় মোট জিডিপিতে উৎপাদন খাতের অবদান ১৭ দশমিক ২৭ থেকে বেড়ে ২৩ দশমিক ১৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলেও দাবি করে হাসিনা সরকার।

উৎপাদন খাতের হাত ধরে শিল্প খাতে বছরের পর বছর দেখানো জিডিপি প্রবৃদ্ধির এ হিসাব মিলছে না বিবিএস পরিচালিত অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪-এর প্রাথমিক ফলাফলে। অর্থনৈতিক শুমারির প্রাথমিক হিসাব বলছে, গত ১০ বছরে উৎপাদন খাতে অর্থনৈতিক ইউনিটের (প্রতিষ্ঠান) সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ১৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অথচ ২০০১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত সময়ে পরিচালিত শুমারির তুলনায় ২০১৩ সালের শুমারিতে এই খাতে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা বেড়েছিল ১০০ দশমিক ৪২ শতাংশ। সার্বিকভাবে দেশে অর্থনৈতিক ইউনিটের প্রবৃদ্ধি কমেছে বলে প্রতিবেদনটিতে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, উৎপাদন খাতের প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক কম প্রবৃদ্ধি হওয়ায় অর্থনৈতিক ইউনিটে এই খাতের অবদান ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালে মোট অর্থনৈতিক ইউনিটে উৎপাদন খাতের অবদান ছিল ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ, যা ২০১৩ সালে ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশে নেমে আসে। এ হিসাবে টানা দুই শুমারিতেই কমেছে উৎপাদন খাতের প্রতিষ্ঠানের অবদান।

গত ১০ বছরে সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৬৯ লাখ ১৫ হাজার ৯৮২ থেকে ৫৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৮ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৬-এ দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিএস। এর ফলে প্রতিষ্ঠানে সেবা খাতের অবদান ৮৮ দশমিক ৮৬ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১ দশমিক ২৩ শতাংশে।

গেল এক দশকে দেশের দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার বেড়েছে ৪০ লাখ কোটি টাকা। এ সময় দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ৪০ লাখ ৫৮ হাজার খানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সার্ভিস, তথা সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে ৩৯ লাখ ১৯ হাজারটি আর উৎপাদন খাতে যুক্ত হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৩৮ হাজারটি। এ কারণে ১০ বছরে মাত্র ৬২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

অর্থনৈতিক শুমারির প্রতিবেদন মতে, এক দশকে অর্থনৈতিক ইউনিট বেড়েছে ৪০ লাখ ৫৮ হাজারটি। এর মধ্যে সেবা খাতে বেড়েছে ৩৯ লাখ ১৯ হাজারটি আর উৎপাদন খাতে বেড়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮৫টি ও অর্থনৈতিক ইউনিট বাই টাইপে ১ কোটি ১৮ লাখ ৭৭ হাজার ৩৬৪টি। এর মধ্যে পার্মানেন্ট ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ২১৪টি ও টেম্পোরারি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৬২১টি। ইকোনমিক হাউজহোল্ডে ৫০ লাখ ১২ হাজার ৫২৯টি। ঠিক এর এক দশক আগে প্রতিষ্ঠান ছিল ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৫টি। এর মধ্যে পার্মানেন্ট ছিল ৪৫ লাখ ১৪ হাজার ৯১টি, টেম্পোরারি ৪ লাখ ৮২ হাজার ৯০৩টি আর ইকোনমিক হাউজহোল্ড ছিল ২৮ লাখ ২১ হাজার ৫৭১। অর্থাৎ ৪০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯৯টি অর্থনৈতিক ইউনিট বেড়েছে।

অর্থনৈতিক ইউনিটের মধ্যে গ্রামাঞ্চলে রয়েছে ৮৩ লাখ ৪৬ হাজার ১৬১টি আর শহরাঞ্চলে রয়েছে ৩৫ লাখ ৩১ হাজার ২০৩টি। এর আগে ২০১৩ সালে গ্রামাঞ্চলে ছিল ৫৫ লাখ ৮৯ হাজার ১৯টি এবং শহরাঞ্চলে ২২ লাখ ২৯ হাজার ৫৪৬টি। স্থানীয় বা পার্মানেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গ্রামাঞ্চলে রয়েছে ৩৯ লাখ ৪১ হাজার ৬৮টি, শহরাঞ্চলে ২৩ লাখ ৪৭ হাজার ১৪৬টি, যা ১০ বছর আগে ছিল গ্রামাঞ্চলে ২৯ লাখ ৩৬ হাজার ৪৫৯টি আর শহরাঞ্চলে ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ৬৩২টি। টেম্পোরারি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৬২১টির মধ্যে শহরাঞ্চলে রয়েছে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯০৯টি আর গ্রামে ২ লাখ ৯১ লাখ ৭১২টি, যা ২০১৩ সালে ছিল ২ লাখ ৭৬ হাজার ৬৯৩টি।

প্রতিবেদন অনুসারে ২০২৪ সালে ৩ কোটি ৭ লাখ ৬১ হাজার ৩৪ জন বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এর মধ্যে পুরুষ ২ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ২৯৮ জন, নারী ৫১ লাখ ২৮ হাজার ৬৭৭ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ২ হাজার ৫৯ জন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত