রাজধানী ঢাকা থেকে রাজউকের পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পে যাতায়াতের জন্য কাঞ্চন-কুড়িল চার লেনবিশিষ্ট সড়ক নির্মাণ করা হয়। ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি ৩০০ ফুট সড়ক হিসেবে পরিচিত। সড়ক নির্মাণ হওয়ার পর থেকেই রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলার লোকজন বিকেলে উন্মুক্ত স্থানে ঘুরে বেড়ানোর জন্য ছুটে আসেন পূর্বাচল উপশহরের বিভিন্ন সেক্টরে। সড়কটিতে মোটরসাইকেল চালকদের বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনাও ঘটছে বেশি বেশি। গত পাঁচ বছরে সড়কটিতে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৭৫ জন নিহত হয়েছে। পুলিশের হিসাব বলছে, এসব দুর্ঘটনার ৯০ শতাংশই মোটরসাইকেলে ঘটেছে।
স্থানীয় লোকজন ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের ভাষ্য, রাত একটু গভীর হলেই বাইকাররা বেপরোয়া হয়ে উঠে ৩০০ ফুট সড়কে। ঢাকার তুলনায় যানবাহনের চাপ কম থাকায় বাইকাররা এ সড়কে বিভিন্ন সময় বাইক রেসিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। বছরখানেক আগে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের কারণে বাইকের রেস খেলা ও দ্রুতগতিতে গাড়ি চলাচল বেশ কিছুদিন বন্ধ ছিল। অভিযান বন্ধ হওয়ার পর আবারও শুরু হয়েছে বেপরোয়া গতিতে বাইক চলাচল। ৩০০ ফুট সড়ক জুড়ে পুলিশের বেশ কয়েকটি চেকপোস্ট থাকলেও কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না বেপরোয়া বাইক চলাচল। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, নিহতদের বেশিরভাগই বাইকচালক।
রূপগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১১৯টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। এ ছাড়া জরিমানা আদায় করা হয়েছিল ২ লাখ ৭০ হাজার ৮০০ টাকা। সূত্রটি আরও জানায়, গত বছর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০০ গাড়িকে অতিরিক্ত গতির জন্য সতর্ক করে দিয়েছিল। ট্রাফিক আইন ভাঙার অভিযোগে ১৩টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। পাশাপাশি ১৪টিকে রেকার দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং পাঁচটিকে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়েছিল। অভিযান বন্ধ থাকার কারণে মোটরসাইকেল ও যানবাহনের বেপরোয়া গতি আবারও বেড়ে গেছে।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, পূর্বাচল সড়কের রাতের মায়াবি দৃশ্য বিমোহিত করে নগরবাসীকে। তাই পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কের সৌন্দর্য দেখতে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে ছুটে আসেন অনেকে। তবে প্রতিনিয়ত বাইকারদের এমন উচ্ছৃঙ্খল আচরণে আবেদন হারাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন এ সড়ক।
স্থানীয় বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, ৩০০ ফুট সড়কে যেভাবে বেপরোয়া গতিতে বাইক চালানো হয়, দেখে মনে রেস করছে। পুলিশকেও এ ব্যাপারে তেমন পদক্ষেপ নিতে দেখি না। পদক্ষেপ না নেওয়ায় দিন দিন বাইকাররা বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
মাহবুব আলম প্রিয় নামের আরেকজন বলেন, পুলিশ যদি সঠিকভাবে চেকপোস্ট বসিয়ে বেপরোয়া গতির বাইকারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিত তাহলে এসব উচ্ছৃঙ্খলতা বন্ধ হয়ে যেত। বেপরোয়া বাইকারদের বেশিরভাগই তরুণ বয়সী। ওদের বেশিরভাগের কাছেই ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই।
রূপগঞ্জ থানার ওসি লিয়াকত আলী বলেন, চেকপোস্টের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নেই। ফলে একসঙ্গে ১৫-২০ জন বাইকার আসছে, তাদের থামানোও সম্ভব হচ্ছে না। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকটা যানবাহনের চাপ কমে যাওয়ায় উচ্চগতির কারণে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেন, সড়কটা অনেক বড়। সড়কটার একটা অংশ দেখেন ডিএমপি। আরেকটা অংশ রূপগঞ্জ থানা। সড়কে চেকপোস্ট রয়েছে। তারপরও সম্ভব হচ্ছে না। অধিকাংশ ঘটনাগুলো বাইকারদের। শিগগিরই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে।
