এ মাসেই ছাত্রদের দল

যুগ্ম আহ্বায়ক সদস্য সচিব ঠিক করতে হিমশিম

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:৫৪ এএম

জুলাই বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করতে পারে চলতি মাসের শেষদিকে। অর্থাৎ রোজা শুরুর আগেই নতুন এই দলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। এতে আহ্বায়ক হিসেবে অনেকটা নিশ্চিত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। ১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করতে পারেন তিনি।

এদিকে আহ্বায়ক হিসেবে নাহিদ অনেকটাই নিশ্চিত থাকলেও যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিবসহ কমিটির অন্য পদগুলোতে কারা থাকবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ পদে পাঁচজনের নাম আলোচনায় থাকলেও ঢাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আকতার হোসেনকে দেখা যেতে পারে। জাতীয় নাগরিক কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র বলছে, রাজনৈতিক দল ঘোষণা করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (জানাক) নেতারা। এরই মধ্যে নতুন দলের আহ্বায়ক মোটামুটি চূড়ান্ত। সিদ্ধান্তে বড় কোনো পরিবর্তন না এলে সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামই হচ্ছেন নতুন এই দলের আহ্বায়ক। এরই মধ্যে জনগণের কাছ থেকে নানা ধরনের মতামতের পাশাপাশি নামের প্রস্তাবনাও নিয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। সেসব নাম নিয়ে পর্যালোচনা করছেন নেতারা। আজ সোমবারও এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যেখানে সম্ভাব্য নামসহ অন্যান্য বিষয় আলোচনা হবে।

জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা চলতি মাসের শেষদিকে রাজনৈতিক দল ঘোষণার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। সেটা ২৪ ফেব্রুয়ারিও হতে পারে আবার ২৮ ফেব্রুয়ারিও হতে পারে। আমাদের কাজ যত দ্রুত গোছাতে পারব ঘোষণা তত দ্রুত আসবে। এখনো দলের কোনো নাম বা শীর্ষ নেতৃত্ব চূড়ান্ত হয়নি।

নাগরিক কমিটির অন্য একটি সূত্র বলছে, এরই মধ্যে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কাঠামো তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শীর্ষ এক নেতা জানান, নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করার পর ২৪ তারিখে দল ঘোষণার লক্ষ্য ছিল। অনেক কাজ করতে হচ্ছে, কোনো কারণে কাজ শেষ না হলে ২৫ ও ২৬ তারিখ দল ঘোষণার বিপক্ষে অনেকেই। কেননা হাসিনা সরকার ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি দেশের ইতিহাসে ন্যক্কারজনক ‘পিলখানা হত্যাকা-’ ঘটিয়েছিল।

এদিকে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম। তাকে নতুন দলকে নেতৃত্ব দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে সাড়া দিয়ে মন্ত্রণালয় ছেড়ে নাহিদ ইসলাম জনতার কাতারে নেমে এসে শিগগিরই নতুন দলের দায়িত্ব নেবেন।

গতকাল বিকেলে নারায়ণগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, চলতি মাসেই দেশে ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা করা হবে। ফ্যাসিস্টবিরোধী ছাত্রদের যে নতুন রাজনৈতিক দল হবে, সেই দলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে কেউ এই দলের নাম ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারবে না।

নেতৃত্ব নিয়ে ৩ ধারায় বিভক্ত : সদস্য সচিব পদে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তাছাড়া এ পদে আরও পাঁচ-ছয়জনের নাম শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনাইদ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহর নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কাকে সদস্য সচিব করা হবে সেজন্য কমিটি ঘোষণার আগপর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলছেন নেতারা।

এদিকে নতুন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পদ নিয়ে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। গত শনিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে নিয়ে আলোচনা করছেন। এর পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে অনেকে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে বেশি সরব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অনেকে বলছেন, আখতার শুধু চব্বিশের অভ্যুত্থান থেকে নয়, বরং ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকারের জন্য লড়াই করছেন।

নাগরিক কমিটির শীর্ষ এক নেতা বলেন, নতুন রাজনৈতিক দলকে কেন্দ্র করে ছাত্রনেতাদের মধ্যে তিনটি কোরাম হয়েছে। একটি বামধারা থেকে আসা ছাত্রনেতাদের, দ্বিতীয়টি সাবেক শিবির নেতাদের এবং তৃতীয়টি মোটাদাগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা, যাদের মূল ছাত্র অধিকার পরিষদ কিংবা ছাত্রশক্তি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানাকের এক নেতা বলেন, আখতারের উপদেষ্টা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে করা হয়নি। নতুন রাজনৈতিক দল ইনক্লুসিভ করতে গিয়ে এখানে নানান মতের মানুষ আসছে। শিবির চায় তাদের সাবেক নেতারা নেতৃত্বে আসুক। বামরা প্রথমে আখতারের দীর্ঘ সংগ্রামের জন্য তাকে নেতা হিসেবে চাইলেও এখন চায় না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত