প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশের জনগণকে মনে রাখেনি, শুধু স্বৈরাচারকে মনে রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ মনে করে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের যে অন্যায্য চুক্তি আছে, সেগুলো বাতিল করতে হবে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব রক্ষা করতে হলে অবশ্যই বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের কথা বিবেচনা করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ প্রতিবেশী দেশ থেকে আর অন্যায্যতা দেখতে চায় না, ফেলানীর ঝুলন্ত লাশ আর দেখতে চায় না।’
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) তিস্তা নদীপাড়ের পাঁচটি জেলার ১১টি পয়েন্টের অবস্থান কর্মসূচিতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগস্টে খুনি স্বৈরাচারী দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। এ স্বৈরাচার একদিন একটি কথা বলেছিল, ‘‘ভারতকে যা দিয়েছি তা তারা (ভারত) সারা জীবন মনে রাখবে”। তাই এই পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত শুধু স্বৈরাচারকে মনে রেখেছে, বাংলার মানুষকে মনে রাখেনি। প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশকে কিছু দেয়নি, শুধু দিয়েছে স্বৈরাচারকে। প্রতিটি দেশেরই তাদের প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বা ঝামেলা থাকে। কিন্তু সেগুলোকে ক‚টনৈতিকভাবে সমাধান করা হয়। যেটা আমাদের এখানে এতদিন হয়নি।’
তারেক রহমান বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ যদি আমাদের তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা না দেয়, তাহলে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকা যাবে না। আমাদেরটা আমাদেরই চিন্তা করতে হবে। দেশটির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আবার নতুন করে শুরু করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘তিস্তার ন্যায্য পানি আদায়ের জন্য আজকে আমাদের আন্দোলন করতে হচ্ছে। এ পানি বণ্টন নিয়ে আমাদের প্রতিবেশী দেশ অপ্রতিবেশীমূলক আচরণ করছে। ৫০ বছর ধরে ফারাক্কার অভিশাপ থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পায়নি। এখন আবার এসেছে তিস্তার অভিশাপ।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশের অপ্রতিবেশীমূলক আচরণের কারণে আজকে তিস্তাপাড়ের লাখ মানুষ বন্যায় এবং খরা নিয়ে জীবনযাপন করছে। এর ফলে লাখ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।’
বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিস্তার পানির বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখবে বলে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘পাশাপাশি দেশের অন্য যেসব নদী আছে, সেগুলোকে আমাদের পুনরায় সংস্কার এবং খনন করতে হবে। শহীদ জিয়ার সেই খাল খানন কর্মসূচি আমাদের পুনরায় হাতে নিতে হবে।’
স্বৈরাচার সরকার গত ১৫ বছর নির্বাচনকে তামাশায় পরিণত করেছে এমনটা উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘স্বৈরাচার ৫ আগস্ট পালিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের মানুষের সম্ভাবনা এবং সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারের কোনো হটকারী সিদ্ধান্তে বা আমাদের অসতর্কতায় যেন খুনি ফ্যাসিস্ট সরকারের কেউ পুনর্বাসন হওয়ার সুযোগ না পায়, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।’
দুদিন ধরে তিস্তাপাড়ের মানুষ যে আন্দোলন করছে, তা বৃথা যাবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তিস্তাকে রক্ষা করতে হলে তিস্তাবাসীকে একটি দায়িত্ব পালন করতে হবে। আর সেটি হচ্ছে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আপনাদের পছন্দের দলে ভোট দিতে হবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
উল্লেখ্য, তিস্তা নদীর সঙ্গে রয়েছে দেশের উত্তরের ২৫টি নদীর প্রবাহ। লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা- এ পাঁচ জেলার বুক চিরে প্রতি বছরই ডেকে আনছে বন্যা ও খরা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিস্তা নদীর বিস্তৃত ব্যবস্থাপনা ও পুনর্জীবনে একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু হয়নি পানি চুক্তি বা চ‚ড়ান্ত হয়নি তিস্তা মহাপরিকল্পনা। যে কারণে প্রতি বছর বন্যায় সাধারণ মানুষের ক্ষতি ও ফসল নষ্ট হয়। এখন আন্দোলনই শেষ ভরসা তিস্তাপাড়ের মানুষের।
