অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে এক করেছে ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজ। র্যাপার সেজানের ‘কথা ক’ গানের প্রথম চরণকে শিরোনাম করে মহান ভাষা আন্দোলন ও জুলাই আন্দোলনের ওপর পোস্টার, চিত্রকর্ম ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীর আয়োজন করে সংগঠনটি।
চট্টগ্রাম নগরীর জামালখান মোড়ে অনুষ্ঠানটি চলে বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টার পরও। শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশনার পর ভাষা ও জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয় পোস্টার, চিত্রকর্ম ও গ্রাফিতি নিয়ে তৈরি গ্যালারি। দেবাশিষ চক্রবর্তীর বিখ্যাত জুলাই অভ্যুত্থানের পোস্টারসমূহও স্থান পায় এখানে।
এসব দেখতে এসে ফাইরুজ নুজহাত নামে এক শিক্ষার্থী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তার মতে, জুলাই আর বায়ান্ন এক সুতোয় গাঁথা।
সন্ধ্যায় শুরু হয় বায়ান্ন ও চব্বিশের বিভিন্ন ডকুমেন্টারির প্রদর্শনী। এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজের পরিচালক, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা কমিটির সদস্য সাইদ খান সাগর।
তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের আগের আর পরের সংস্কৃতিতে একটা বিশেষ পরিবর্তন লক্ষণীয়।
জুলাই আন্দোলনে র্যাপ সং নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। গ্রাফিতি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। পোস্টারেরও যে শক্তিশালী ভাষা থাকতে পারে সেটাও দেখা গেছে এই আন্দোলন ও আন্দোলন পরবর্তী সময়ে। ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজ এই নতুন কালচারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই আয়োজন থেকে দ্রুত জুলাইয়ের গণহত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানাই আমরা।’
স্ক্রিনিংয়ের শুরুতেই ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। তারপর ১৯৫২ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও তার পরবর্তী সরকারের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ড নিয়ে সাইদ খান সাগরের প্রামাণ্যচিত্র ‘জুলাই শিখা’ প্রদর্শিত হয়। এছাড়া প্রদর্শিত হয় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্মিত ‘জুলাই টাইমলাইন’, ভাষা দিবস উপলক্ষে গানের ভিডিও।
প্রদর্শনী দেখতে আসেন সরকারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান। এ সময় দেখা মেলে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে পেশাজীবী, স্কুল শিক্ষক, রিকশাচালকসহ নানা ধরনের দর্শনার্থীর। অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় ছিল চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ।
