সানেম সম্মেলনে বক্তারা

রাজনৈতিক বিরোধে বিঘ্নিত দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়ন

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:১১ এএম

আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ যে একটি অঞ্চলের সব দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে, তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক জোট আসিয়ানের সদস্য দেশগুলো অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা ও আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেও এমন অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দেশগুলোর মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক বিরোধ প্রকট হওয়ায় সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) বার্ষিক অষ্টম বার্ষিক অর্থনীতিবিদ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে গতকাল শুক্রবার বক্তারা এসব কথা বলেন। অনলাইনে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশন সঞ্চালনা করেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রাঞ্জিসকা অনসোর্জ। প্যানেল আলোচক ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর রিসার্চ অন ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক রিলেশনসের প্রধান নির্বাহী দীপক মিশ্র এবং জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শান্তা দেবরজন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে শান্তা দেবরজন বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে ভূ-রাজনৈতিক বিরোধ অনেক প্রবল। শ্রীলঙ্কায় ২০১৯ সালে যে অর্থনৈতিক সংকটের সূত্রপাত হয়েছিল, তারও মূলে ছিল ভূ-রাজনীতি। তিনি উল্লেখ করেন, ভূ-রাজনৈতিক কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সংযোগ স্থাপন বিঘ্নিত হচ্ছে।

দীপক মিশ্র বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো রাজনৈতিক বিরোধ পেছনে ফেলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে চলেছে। ওইসব দেশের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ আছে। কিন্তু তারা রাজনৈতিক বিরোধকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মধ্যে টেনে আনে না। যে কারণে তারা এগিয়ে যেতে পারছে। দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রেও রাজনীতিবিদদের বিরোধের দিকে না তাকিয়ে অর্থনৈতিক সংযোগ স্থাপনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে দেশগুলোর অভ্যন্তরেও নানা ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। যেসব সংস্কার সম্পন্ন করার বিষয়ে দেশগুলোকে উদ্যোগী হতে হবে।

সংস্কার বিষয়ে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আমি জোরালোভাবে সংস্কারের পক্ষে। কিন্তু অভিজ্ঞতা বলে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো নিজেরা তাড়িত হয়ে কোনো সংস্কার করে না। এখানে যেসব সংস্কার হয়েছে সবগুলো হয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে। সুতরাং আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে সংস্কারকাজ সম্পন্নের বিষয়ে দেশগুলোকে তাগিদ দিতে হবে। এক্ষেত্রে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি জানান, অনেকে মনে করে থাকতে পারেন যে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের যুগে ডব্লিউটিওর গুরুত্ব ফুরিয়ে আসছে। তা কিন্তু নয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৮৫ শতাংশ এখনো ডব্লিউটিওর কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন হয়। তিনি উল্লেখ করেন, দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স ও উন্নয়ন সহায়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।

মূল প্রবন্ধে ফ্রাঞ্জিসকা অনসোর্জ বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআর) ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে এবং বাংলাদেশে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযুক্তি বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম। এক্ষেত্রে ভিয়েতনাম অনেক এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশের আগামী দিনের উন্নয়নে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত