ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উত্থাপিত প্রস্তাবে ইউক্রেনের বিরোধিতা করে রাশিয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়। যুদ্ধের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে মস্কোর কর্মকাণ্ডের নিন্দা ও ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে এ প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিল ইউরোপের দেশগুলো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, প্রস্তাবটি উত্থাপনের শুরুতেই এর বিরোধিতা করে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তাদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করল। তবে মস্কো-ওয়াশিংটনের বিরোধিতা সত্ত্বেও ইউরোপের উত্থাপিত প্রস্তাবটি ৯৩ ভোটে পাস হয়। এ দুই দেশ ছাড়াও প্রস্তাবটিতে সমর্থন জানায়নি উত্তর কোরিয়া, সুদান, বেলারুশ, হাঙ্গেরিসহ আরও ১৮টি রাষ্ট্র। তবে ভোটদানে বিরত ছিল ৬৫টি দেশ।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘে উত্থাপিত আরও দুটি প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটিতে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভক্তি দেখা গেছে। নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করে। সেখানে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। তবে প্রস্তাবটিতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো সমালোচনা নেই। নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি পাস হলেও, সেখানে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দুই অন্যতম মিত্র যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। এরপর যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি প্রস্তাবে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে। রাশিয়াকে আগ্রাসী উল্লেখ করে ফ্রান্সের নেতৃত্বে সংশোধনী প্রস্তাবটি আনা হয়েছিল। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের তৃতীয় বার্ষিকীতে এ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। গত মাসে প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিক শপথ নেওয়ার পর থেকে তিনি ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধের ওপর আরও জোর দিয়েছেন। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধবিরতি হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
ইউক্রেনকে পাশ কাটিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে এ নিয়ে শান্তি আলোচনাও শুরু করেছে নতুন ট্রাম্প প্রশাসন। তাতে উদ্বেগ বাড়ছে ইউরোপীয় নেতাদের। তাদের আশঙ্কা, রাশিয়া এই আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আদায় করে নিতে পারে, যা কিয়েভকে আরও পশ্চাৎপদ অবস্থায় নিয়ে যাবে।
