মাদরাসাসহ সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি বিএমজিটিএ’র

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:৪৮ এএম

মাদরাসাসহ সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স এসোসিয়েশন (বিএমজিটিএ)। সেইসঙ্গে রাজপথে আন্দোলনরত শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের সাথে একাত্মতা পোষণ করেছে সংগঠনটি। 

বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলরুমে অনুষ্ঠিত ‘শিক্ষা ব্যবস্থায় বিরাজমান বৈষম্য, অনিয়ম ও অসংগতি দূরীকরণের লক্ষ্যে মাদরাসাসহ সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবী’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এই দাবি জানাই সংগঠনটি।

এসময় লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির মহাসচিব শান্ত ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষকরা রাজনীতি করেন না। এটা তাদের কাজও না। তবুও বছরের পর বছর তারা রাজনীতির মারপ্যাচে পিষ্ট। সরকার আসে, সরকার যায়। কিন্তু শিক্ষকরা অমানবিক কষ্ট, সীমাহীন দুর্ভোগ ও মানবেতর জীবন-যাপন থেকে বের হতে পারেন না। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক মুক্তি যেন সোনার হরিণ।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিএমজিটি ২০১৩ সাল থেকে অদ্যাবধি মাদরাসায় কর্মরত বৈষামার শিকায় জেনারেল শিক্ষকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

এ সময় শান্ত ইসলাম প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘আপনি বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিমন্ডাল মানবতাকামী, পরিচ্ছন্ন ও মুক্তিকামী মানুষ হিসেবে বহুল পরিচিত। আপনি অবগত আছেন যে, স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও স্বাধীনতার সুফল থেকে বঞ্চিত মুক্তিকামী মানুষ।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়। বলা হয়, শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্য, অনিয়ম ও অসংগতি দূর করার অন্য শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

সংগঠনের মহাসচিব আরও বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ এর ২৩ নভেম্বর ২০২০ সালে প্রকাশিত সংশোধনীতে স্কুল কলেজ ও মাদরাসায় কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে বেশ কিছু বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স এসোসিয়েশনেরআবেদনের প্রেক্ষিতে পুনরায় নীতিটি সংশোধনের উদ্দ্যোগ গ্রহন করা হলেও গত তিন বছরেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

এসময় তুলে ধরা উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো- ১. মাদরাসা সহ সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ। ২. বেসরকারি শিক্ষক- কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদান। ৩. সম্মানজনক বাড়ি ভাড়া প্রদান। ৪. চিকিৎস্য ও মহার্য ভাত প্রদান। ৬. মাদ্‌রাসায় কর্মরত বৈষম্যের শিকার সহকারী শিক্ষকদের ১৬ বছরে অষ্টম গ্রেড প্রদান। ৭. মাদরাসায় কর্মরত বৈষম্যের শিকার সকল প্রভাষকদের ১৬ বছরে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি। ৮. এবতেদায়ী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড প্রদান। ৯. অবসরের তিন মাসের মধ্যে কল্যান ও অবসারের ভাতা প্রদান। ১০. ই এফ টি-তে যেতন ভাতা প্রদান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন, শাহ মোহাম্মদ কবির ও তাজুল ইসলাম, সহ-সভাপতি খন্দকার বিল্লাল আহমেদ পলাশ, মো. আবু বকর সিদ্দিক, আব্দুল লতিফ ও মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন,  সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মো. মনিরুজ্জামান। সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান প্রমুখ।   

সংবাদ সম্মেলন শেষে সংগঠনের নেতারা প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থানরত আন্দোলনরত শিক্ষকদের সাথে একাত্মতা পোষন করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত