বার্ধক্য জীবনের এমন একটি পর্যায়, এ সময়টাতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে যেকোনো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বার্ধক্য একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যা আমাদের শরীরের কোষ এবং অঙ্গের বয়স বৃদ্ধির মাধ্যমে ঘটে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কোষের ক্ষমতা কমে যায় এবং কোষ বিভাজন বন্ধ হয়ে যায়, নতুন করে দেহে আর কোষ তৈরি হয় না। ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। এ ছাড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিএনএতে পরিবর্তন, শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়া এবং সেল মিউটেশন (কোষের জিনগত পরিবর্তন) হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
অন্যদিকে ক্যানসার হচ্ছে কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি, যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। বার্ধক্যের কারণে শরীরের কোষগুলোর মধ্যে মিউটেশন বা জিনগত পরিবর্তন ঘটতে পারে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ক্যানসার সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, কারণ কোষের জিনগত পরিবর্তন ও শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে বৃদ্ধ বয়সে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
তবে ক্যানসারের কারণে বার্ধক্য ত্বরান্বিত হওয়ার বিষয়টি সরাসরি দেখা না গেলেও, ক্যানসারের চিকিৎসা বা প্রতিকার প্রক্রিয়া শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর চাপ ফেলতে পারে, যা বার্ধক্য সম্পর্কিত অন্যান্য শারীরিক সমস্যাগুলোকে আরও তীব্র করতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে পরিবর্তন আসে এবং কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রবীণদের ক্ষেত্রে ক্যানসারের কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো অস্বাভাবিক রক্তপাত, ওজন কমে যাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত ব্যথা, ত্বকে পরিবর্তন, হজমে সমস্যা ইত্যাদি।
প্রবীণদের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কিছু নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে যেমন হেলথ স্ক্রিনিং করা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা, শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা এবং ধূমপান বা অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ। মোট কথা, ক্যানসারে আক্রান্তের ঝুঁকিতে থাকে প্রবীণরা, তাই প্রবীণ বয়সে পৌঁছার আগে আমাদের সচেতন হওয়া জরুরি। বার্ধক্যে যাওয়ার পূর্বপ্রস্তুতি প্রয়োজন। জীবন যাবনে পরিবর্তন ও নিয়মিত ব্যায়াম অনেকাংশেই প্রবীণ বয়সে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে।
