সাংবাদিকদের প্রেস সচিব

আদানির চুক্তি পর্যালোচনার জন্য দক্ষ জনবল নেই

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৮:৪১ এএম

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে ডাকাতির বন্দোবস্ত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব (সিনিয়র সচিব) শফিকুল আলম। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও অনেক প্রতিষ্ঠান ক্যাপাসিটি চার্জ তুলে নিয়েছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আইন করে এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তবে চুক্তি পর্যালোচনায় সরকারের অভ্যন্তরে দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদের আনোয়ারার বাড়িতে যাওয়ার সুবিধার্থে ব্যক্তিস্বার্থে কর্ণফুলী টানেলের মতো একটি অলাভজনক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা  হয়েছে। গতকাল বুধবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (ডিজেএফবি) আয়োজিত ডিজেএফবি টকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শফিকুল আলম। ডিজেএফবি সভাপতি হামিদ-উজ-জামানের সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মুহিব। বক্তব্য রাখেন ডিজেএফবির সহসভাপতি সাহানোয়ার সাইদ শাহীন।

শফিকুল আলম বলেন, বিগত সরকারের সময় বিদ্যুৎ খাতে চুরির কারখানা বানানো হয়েছে। আইন করে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ডাকাতির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সরকার ভারতের আদানির বিল বাবদ ৯০০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া রেখে গিয়েছিল। সেখান থেকে বর্তমান সরকার এই বকেয়া ৫৫০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

এ সময় সাংবাদিকরা জানতে চান, বিদ্যুৎ কেনার চুক্তিতে ত্রুটি আছে। আর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এসব চুক্তি পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কিন্তু এখনো আদানির চুক্তি কেন পর্যালোচনা করা হলো না জবাবে প্রেস সচিব বলেন, আদানির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে আন্তর্জাতিক আইন মেনে। সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ কোথায় কোথায় খর্ব হয়েছে, তা পর্যালোচনার জন্য যে দক্ষ জনবল দরকার, সরকারের অভ্যন্তরে সে ধরনের জনবল নেই। তাই এ কাজের জন্য অভিজ্ঞ ল ফার্মের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

ব্যয়বহুল কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারায়। সেখানে তেমন কিছু নেই। নিজের এলাকায় যাওয়ার জন্য উনি কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প নিয়েছেন। আপনারা (সাংবাদিকরা) খোঁজ নিয়ে দেখেন। প্রকল্পের অর্থে ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে হোটেল করেছেন মন্ত্রী। তিনি ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন ধরে নিয়ে এই আয়োজন করেছেন। তার বাড়ি আনোয়ারায়, তাই টানেল নির্মাণ করেছেন। আরও ১০ বছর পর এই টানেল হলে ভালো হতো। তখন হয়তো কর্ণফুলীর ওই পাড়ে অনেক কিছু হবে।

সামষ্টিক অর্থনীতি বিষয়ে শফিকুল আলম বলেন, বর্তমান সরকার যক্ষ্মা আক্রান্ত একটি অর্থনীতি পেয়েছে। গত ছয় মাসে সামষ্টিক অর্থনীতির অনেক সূচকে উন্নতি হয়েছে, যা অকল্পনীয় (মিরাকল)। বিগত সরকার সামষ্টিক অর্থনীতির সব ধরনের স্থিতিশীলতা ধ্বংস করে গেছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার অপ্রয়োজনীয় অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। টাকা নেই, কিন্তু তা সত্ত্বেও ৫৬০টি মসজিদ বানিয়েছে। প্রতি মসজিদে ১৬-১৭ কোটি টাকা খরচ করেছে। কিন্তু পাড়ার মসজিদ কমিটিকে এই দায়িত্ব দিলে তারা মাত্রা ৩ কোটি টাকার মধ্যে এটি নির্মাণ করতে পারত।

পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্প বিষয়ে প্রেস সচিব বলেন, এমন রেলপথ বানিয়েছে, যেখানে দিনে একটি ট্রেন চলে। প্রকল্প খরচ ৭০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। পছন্দের লোককে সুবিধা দেওয়ার জন্য এমন করা হয়েছে। বাংলাদেশের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার হয়েছে। দেশে থাকলে অন্তত কর্মসংস্থান হতো। কানাডায় বেগমপাড়া হয়েছে, লন্ডনে ব্লকের পর ব্লক কেন হয়েছে।

ব্যাংক খাত নিয়ে শফিকুল আলম বলেন, আমানতকারীরা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, এই বার্তা বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর বারবার দিচ্ছেন। আগের সরকার এখন পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকলে এখন কেউ এক টাকাও ব্যাংক রাখত না। তার মতে, দুই মাস ধরে মূল্যস্ফীতি কমেছে। জুন মাসের মধ্যে ৭ শতাংশে নেমে আসবে। এখন প্রয়োজন জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে পতিত সরকারের দুর্নীতির কারণে ট্যাক্স বাড়াতে হচ্ছে।

সরকারের নানা উদ্যোগের বিষয়ে প্রেস সচিব বলেন, ‘গ্যাসসংকট মেটাতে কূপ খননে জোর দিচ্ছে সরকার। এ ছাড়া ভূমি সেবা এখন হাতের মুঠোয় পাওয়া যাবে। বিদেশে বসে নিজের জমির দলিল পাবেন সবাই। এমনকি সব ধরনের জমির কাজ করতে পারবেন প্রবাসীরা। আগের সরকারের সময় নামসর্বস্ব ডিজিটাল ছিল। সেটি রিয়েল ডিজিটালে রূপান্তর হবে বাংলাদেশে। এ ছাড়া বাংলাদেশ-ভুটান-নেপাল-ভারত যৌথ বিদ্যুৎ গ্রিড লাইনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বৈদেশিক বিনিয়োগ সামনে বাড়বে এমন আত্মবিশ্বাস আমাদের রয়েছে।’

বৈদেশিক বিনিয়োগ আনতে চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, ‘এই পোর্টের দক্ষতা না বাড়লে ইনভেস্টমেন্ট বাড়বে না। রি-এক্সপোর্ট করতে গেলে চট্টগ্রামের দক্ষতা আরও বাড়াতে হবে। এজন্য বিশে^র বড় বড় কোম্পানির সঙ্গে কথা হচ্ছে। আমরা চাই চট্টগ্রামের প্রতিটি পোর্ট উন্নয়ন করতে, তাহলে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়বে। এনার্জি সিস্টেমে দক্ষ না হলে কেউ বিনিয়োগ করবে না। তাই সেখানে সঠিকভাবে কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করা হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত