ক্যাট কিউবিট চিপ নিয়ে আমাজন

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৫, ০৬:২৮ এএম

কয়েক মাসের মধ্যে তৃতীয় টেক জায়ান্ট হিসেবে আমাজন কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে এক যুগান্তকারী সাফল্য ঘোষণা করেছে। কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এমন এক প্রযুক্তি, যা দ্রুততম সময়ে বিশাল ডেটা প্রক্রিয়ার সুবিধা দিলেও প্রযুক্তিগতভাবে এটি তৈরির বিষয়টি অনেক কঠিন। ‘ক্যাট কিউবিট’ প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি ‘ওসেলট’ নামের এক প্রোটোটাইপ চিপ উন্মোচন করেছে আমাজন। এটি এমন এক পদ্ধতি, যার নাম রাখা হয়েছে পদার্থবিজ্ঞানের বিখ্যাত ‘শ্রোডিংগারের ক্যাট’ ধারণা থেকে।

আমাজনের মুখপাত্র জানিয়েছে, এ শিল্পে অন্যান্য সাম্প্রতিক সাফল্যের পাশাপাশি এ চিপ তৈরির মানে হচ্ছে দরকারি বিভিন্ন কোয়ান্টাম কম্পিউটারকে আগের ধারণার চেয়েও দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো। তবে এসব মেশিন কত দ্রুত তৈরি ও বাণিজ্যিক প্রয়োগের জন্য ব্যবহারিকভাবে কার্যকর করা সম্ভব হবে তা নিয়ে এরই মধ্যে বিতর্ক রয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। এ চিপটি বানানো হয়েছে ক্যালটেক বা ‘ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’তে। অ্যামাজন ‘ওয়েব সার্ভিসেস’ বা এডব্লিউএস-এর ‘সেন্টার ফর কোয়ান্টাম কম্পিউটার’-এর অস্কার পেইন্টার বলেছেন, এসব অগ্রগতির অর্থ হচ্ছে এক দশকের ‘সময়ও’ এখন ‘আরও বেশি বাস্তব মনে হচ্ছে’।

‘পাঁচ বছর আগেও হয়তো আমি কোয়ান্টাম কম্পিউটার ২০ বা ৩০ বছর পর আসবে বলে ধারণা করতাম, তবে এ সময় এখন অনেকটা এগিয়ে এসেছে।’ ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা সরবরাহকারী কোম্পানি এডব্লিউএস তাদের গ্রাহকদের কোয়ান্টাম কম্পিউটিং সেবা দিতে চায়। তবে পেইন্টার বলেছেন, এসব উন্নত মেশিন শেষ পর্যন্ত আমাজনের খুচরা ব্যবসার বিশাল বৈশ্বিক সরবরাহ দিতে সহায়তা করবে।

কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার বর্ণনা অনুসারে বিভিন্ন কোয়ান্টাম কম্পিউটার খুব ছোট পরিসরে পদার্থ ও শক্তির অদ্ভুত বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে সমস্যার সমাধান করে। বিবিসি লিখেছে, কোয়ান্টাম কম্পিউটার প্রচলিত বিভিন্ন কম্পিউটারকে প্রতিস্থাপন করবে না। তবে এমন সমস্যা সমাধান করতে পারবে, যা সবচেয়ে শক্তিশালী আধুনিক কম্পিউটারও করতে পারে না। যেমন এটি আরও ভালো ব্যাটারি ও নতুন ওষুধ তৈরি করে নতুন সব আবিষ্কারের দুয়ার খুলে দেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত