মাগুরায় বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার ৮ বছরের শিশু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদিকে শুক্রবার সকালে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবিতে শুক্রবার বিক্ষুব্ধ জনতা থানা ঘেরাও ও বিক্ষোভ মিছিল করে।
এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে শিশুটির দুলাভাই সজীব শেখ (১৯) ও তার বড় ভাই রাতুল শেখকে (২৮) আটক করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার ঘটনার পরপরই আটক হন সজীব শেখের বাবা হিটু শেখ (৪৫)।
মাগুরা সদর থানার ওসি আইয়ুব আলী জানান, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। শিশুটির স্বজনরা ঢাকায় থাকায় এখনো মামলা হয়নি। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
এদিকে শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে ধর্ষণের প্রতিবাদে মুসল্লিরা বিক্ষোভ মিছিল করে জেলার বিভিন্ন জায়গায়। শহরের ভায়না মোড়, চৌরঙ্গী মোড়ে ও মহম্মদপুরে বিক্ষোভ করে। কিছু মুসল্লিরা ভায়না মোড়ে সড়ক অবরোধ করে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এরপর সেখানে উপস্থিত একটি পুলিশের প্রিজন ভ্যান তল্লাশি করে আসামি খোঁজার চেষ্টা করে।
সেখান থেকে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে তারা সদর থানার প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়। সে সময় থানার গেইট ভাঙতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ তাদের বোঝাতে গেলে পুলিশকে ভুয়া বলে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কে বিশৃঙ্খলা শুরু করে সদর থানার প্রধান ফটক ভাঙতে যায়। এ সময় সেখানে সেনাবাহিনী উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এ বিষয়ে মাগুরা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম জানান, ধর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজন দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দেয়নি। তবে পুলিশ এ বিষয়ে তৎপর বলেই অভিযুক্তদের আটক করেছে। শিশুটির চিকিৎসা চলছে হয়তো সেজন্য আইনগত বিষয়ে তার পরিবার বিলম্ব হচ্ছে। তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে পুলিশ কাজ করছে। কিন্তু আমরা দেখছি একদল বিক্ষুব্ধ জনতা ধর্ষকদের বিচারের দাবি করছে এখনই। এটা কি করে সম্ভব এখনই। আইনগত প্রক্রিয়া না হলে দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব নয়। তাই আমরা বিক্ষুব্ধ জনতাকে বলেছি পুলিশ তৎপর আছে আপনারা বাড়ি যান। কিন্তু তা না করে সদর থানা ঘেরাও করতে এসেছে তারা। এ জন্য সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আপাতত পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মাহমুদা মিনা জানান, সকালের দিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়ালেও সে বেঁচে আছে। মেয়েটি ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ও তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা-ছেলেকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
