বাংলাদেশের ফটোগ্রাফি জগতে ইসলামিক ক্ষেত্রে প্রতিভাদের মধ্যে একজন রাজু আহমেদ। গত ১০ বছর ধরে তিনি পেশাদার ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করছেন এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকাগুলোতে তার তোলা ছবি প্রকাশিত হয়েছে। তার অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা হলো আমাদের সঙ্গে।
প্রশ্ন: আপনার ফটোগ্রাফি ক্যারিয়ারের শুরুটা কেমন ছিল?
রাজু আহমেদ: ফটোগ্রাফির প্রতি আমার ভালোবাসা ছোটবেলা থেকেই ছিল। প্রথম দিকে শখের বসে ছবি তুলতাম,যখন গ্রামে ছিলাম তখন মোবাইল দিয়ে শুরু করি।পড়ালেখার জন্য ঢাকায় আসার পর ধীরে ধীরে এটি আমার পেশায় পরিণত হয়। প্রায় ১০ বছর আগে আমি পেশাদারভাবে ফটোগ্রাফি শুরু করি। প্রথমদিকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ঢাকায় কাজ করতাম। শিল্পকলা একাডেমিতে প্রায় ৩ বছর কাজ করি। সেখান থেকে আমাকে ৩ বছরের অভিজ্ঞতা সনদ প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে সময়ে ফটোগ্রাফি পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। এর কিছু সময় পর ২০১৭ সালে সরকারী প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশনে কাজ করার সুযোগ পাই। এরপর থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করছি।
প্রশ্ন: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জন্য ফটোগ্রাফি করার অভিজ্ঞতা কেমন?
রাজু আহমেদ: এটি অত্যন্ত গর্বের এবং দায়িত্বপূর্ণ কাজ। ইসলামিক সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ড চিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা শুধু পেশা নয়, বরং এটি আমার জন্য একটি ইবাদতের অংশও বটে। ইসলাম ধর্মের প্রতিটি উৎসবে বায়তুল মোকাররমে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের ছবি ধারণ করার পর তা পত্রিকায় যখন ছাপা হয়, আমি মনে করি তাতে ইসলাম প্রচার হয়। বায়তুল মোকাররমের কেন্দ্রীক যেকোন ছবি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে দেখার আগ্রহ তৈরি করি।
প্রশ্ন: ইসলামিক ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?
রাজু আহমেদ: ইসলামিক ফটোগ্রাফিতে সম্মান, শালীনতা, এবং ধর্মীয় সংবেদনশীলতা, দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি সবসময় চেষ্টা করি, যাতে প্রতিটি ছবি ইসলামের সৌন্দর্য ও বার্তাকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারে।
প্রশ্ন: আপনার তোলা ছবিগুলো সাধারণত কীভাবে ব্যবহার করা হয়?
রাজু আহমেদ: আমার তোলা ছবি বাংলাদেশের সকল জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজারের মতো ছবি প্রিন্ট পত্রিকায় ও অনলাইন মিলে প্রায় ১৫শ’ ছবি প্রকাশিত হয়েছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন ইভেন্টের জন্য আমার তোলা ছবি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন প্রদর্শনী ও ডকুমেন্টারির জন্যও আমার তোলা ছবি ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়া ইসলামিক বণিক.কম ওয়েবসাইটে আমার তোলা ছবি তারা ব্যবহার করছে।
প্রশ্ন: আপনি কী কখনো ডকুমেন্টারি নির্মাণ করেছেন?
রাজু আহমেদ: আমি শুধু ফটোগ্রাফি করি তাই নয়, আমার লেখা স্ক্রিপ্টে প্রায় ১০টি ডকুমেন্টরি নির্মিত হয়েছে। তার মধ্যে জাকাত বিষয়ক ডকুমেন্টারি সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে। এই ডকুমেন্টরিতে জাকাতের বিষয়গুলো সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় শিশু কিশোর প্রতিযোগিতার, ইসলামিক মিশন হাসপাতাল, হাওড় বাওড় প্রকল্পসহ মোট ১০ উপরে ডকুমেন্টরি নির্মাণ করা করেছি।
প্রশ্ন: ভবিষ্যতে ইসলামিক ফটোগ্রাফি নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
রাজু আহমেদ: আমি ইসলামিক স্থাপত্য, হেরিটেজ এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের আরও গভীর দিকগুলো তুলে ধরতে চাই। যেখানে ইসলামিক সৌন্দর্যকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হবে। এদেশে ইসলামী আলোকচিত্রের সম্ভবনা অনেক কিন্তু সেভাবে এই সেক্টর যথাযথ গবেষণা বা উল্লেখযোগ্য কাজ হাতে গোনা। এই সেক্টরকে অন্যন্য উচ্চতায় দেখতে চাই।
প্রশ্ন: আপনার কাজ সম্পর্কে পাঠকদের আর কিছু জানাতে চান?
রাজু আহমেদ: আমি সবসময় চেষ্টা করি যেন আমার কাজের মাধ্যমে ইসলামিক সৌন্দর্য ও বার্তাকে ছড়িয়ে দিতে পারি। আমার কাজের প্রতি ভালোবাসা এবং দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। বিশেষত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত।
বিরতি ভেঙে প্লেব্যাকে মিলা
সরকার এবং সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা আছে বিএনপির
৫ লাখ ৩০ হাজার অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ