রাজধানীর উত্তরখানে গ্যাস বিস্ফোরণে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, এলাকায় বিক্ষোভ 

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৫, ১২:০৮ এএম

রাজধানীর উত্তরখানে গ্যাসের বিস্ফোরণে আগুন লেগে স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে উত্তরখান মাজার এলাকার ভূঁইয়াবাড়ির মৃত আবদুল হামিদ ভূঁইয়ার বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। 

উত্তরখান থানার ওসি জিয়াউর রহমান জানান, গ্যাস বিস্ফোরণে রিকশাচালক মো. ময়নাল (৪০) ও তার গার্মেন্টসকর্মী স্ত্রী মোছা. আনোয়ারা (৩২) ভয়াবহভাবে দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্ত্রী আনোয়ারার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দগ্ধ স্বামী মো. ময়নাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তিনিও মৃত্যুবরণ করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাশের নির্মাণাধীন সড়কের নিচে থাকা পাইপলাইনের লিক থেকে আগুন লাগে। এ সময় বাসায় না থাকায় রক্ষা পেয়েছে পরিবারটির দুই শিশুসন্তান মনিফা (১২) ও আলিফ (৫)।

এলাকাবাসী, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। মো. ময়নাল জামালপুরের তারাকান্দি উপজেলার মাইজাইলা গ্রামের অধিবাসী।

আগুনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ভূঁইয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শ্রমিক সোহেল বলেন, ‘মাটির নিচের গ্যাসের লাইন থাইকা হঠাৎ কইরা রাস্তায় আগুন ধইরা যায়। ওই আগুন ময়নালের ঘরের ভিতরেও ছড়াইয়া পড়ে। তারপর আমরা বালু ও পানি মাইরা আগুন নিভাইছি।’

পাশের বাড়ির ভাড়াটে মোতালেব বলেন, ‘ময়নালের রুমের নিচ দিয়া গ্যাসের লাইন ছিল। কাজের জন্য রাস্তা কাটার কারণে পাইপ লিক হইয়া গ্যাস বাইর হইতেছিল। আমরা ধারণা, মশার কয়েল ধরানোর সময় গ্যাস থাইকা আগুন লাইগা যায়।’

ঘটনাস্থলে থাকা উত্তরখান থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তোফাজ্জল হোসেন মিঠু বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা পুলিশ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসি। সেই সাথে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।’আহারে, বাড়িওয়ালা ভালা কইরা গ্যাসের কাম করলে তো এমন হইত না। এখন বাচ্চা দুইডার কী অইব’— এসব বলে বাড়ির সামনে বসে বিলাপ করছিলেন মৃত আনোয়ারার বড় বোন আলেয়া। বোনের দুই সন্তানই গ্রামের বাড়িতে রয়েছে বলে জানান তিনি।

আলেয়া আরো বলেন, ‘আমার বইন গার্মেন্টসে চাকরি করে। বেতন পাইয়া ঈদের জন্য অনেক মার্কেট করছিল। ঘরে টাকাও ছিল। সব পুইড়া শেষ হইয়া গেছে। বইনের সারা শরীর পুইড়া গেছে।’

লাইনে ত্রুটির অভিযোগ

এলাকার বাসিন্দা লেগুনাচালক আল আমিন বলেন, ‘গ্যাসের লাইনে লিকের কারণে বুধবার দুপুরের দিকে তিতাসের লোকজন কাজ করে গেছে। আর রাতে ওই লিক থেকেই আগুন লেগে গেছে।’ আগুন লাগা ঘরটির ভেতরের প্রায় সব আসবাব পুড়ে ছাই। ভূঁইয়াবাড়ি এলাকার রাস্তাটির পুরোটাতেই খোঁড়াখুঁড়ি। হেঁটে চলাও কষ্টকর। একটু পরপর রাস্তার গর্তে পানি জমে আছে। আর গ্যাসের বুদবুদ বের হচ্ছে। ময়নালের ঘরের জানালার ঠিক পাশের গর্ত থেকে লিক হওয়া গ্যাসের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাজুড়ে।

অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে উত্তরখান থানার এসআই জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গ্যাসলাইনে লিকের কারণে রুমের ভেতর অনেক গ্যাস জমে ছিল। মশার কয়েল ধরানোর জন্য আগুন জ্বালালে বিস্ফোরণ হয়ে ময়নালের ঘরে আগুন ধরে যায়।’

গ্যাসলাইনে লিকের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিতাস গ্যাসের উত্তরার ইমারজেন্সি টিমের প্রধান নাজমুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের তিতাসের লাইন দেওয়া হয় এসএস পাইপ দিয়ে। আমরা বাড়ির নিচ দিয়ে লাইন দেই না। কিন্তু ওই লাইনটি টানা হয়েছে জিআই পাইপ দিয়ে। তাই আমাদের ধারণা, লাইনটি চোরাইভাবে করা।

তিনি আরও বলেন, ‘অনুসন্ধানে দেখতে পেয়েছি অ্যালবো (দুই পাইপ জোড়া দেওয়ায় ব্যবহৃত) থেকে গ্যাস লিকের সূত্রপাত। আমরা ওয়েলডিং অ্যালবো ব্যবহার করি। কিন্তু এখানে থ্রেড অ্যালবো ব্যবহার করেছে। থ্রেড অ্যালবো ব্যবহার করা হয় বাড়ির ওয়্যারিং কাজের জন্য।’

উত্তরখান থানার ওসি মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডে দুই জন নিহতের ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত