কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাতে এবার ছিল অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়ানো বিশাল জনসমুদ্র। ঈদের আগের দিন থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলার মুসল্লিরা শোলাকিয়ার দিকে যাত্রা শুরু করেন। ঈদের দিন ভোর থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ আশপাশের এলাকাগুলোর মুসল্লিরা ঈদগাহ অভিমুখে ছুটে আসেন।
জামাতের শুরুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মুসল্লিদের ব্যাগ ও দেহ তল্লাশি করেন। জামাত শুরুর আগেই ঈদগাহের চারপাশে রাস্তা, নরসুন্দা নদীর সেতু, আশপাশের বাসাবাড়ি এবং পতিত জমি পর্যন্ত মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন। ঈদগাহ এলাকায় বিশেষভাবে মহিলাদের জন্য পৃথক জামাতের ব্যবস্থা ছিল।
শোলাকিয়া ঈদগাহে জামাত শুরুর আগে ঐতিহ্য অনুযায়ী শর্টগানের গুলি ফুটিয়ে জামাত শুরুর সংকেত দেওয়া হয়। প্রথম গুলিটি ছুঁড়েন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী। এর পর, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম গুলি যথাক্রমে ১০ মিনিট, ৫ মিনিট, এবং জামাত শুরুর আগে বাকি দুটি গুলি দেওয়া হয়।
এবারের জামাতে বিপুল পরিমাণ মুসল্লির উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রায় ১১শ' পুলিশ সদস্য, সেনা সদস্য, বিজিবি, র্যাব ও আনসার-ভিডিপি সদস্যরা একত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন। মাঠের চারপাশে ৬৪টি সিসি ক্যামেরা এবং ড্রোনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ চলছিল। মাঠে ছিল পুলিশের ৬টি ওয়াচ টাওয়ার ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে মুসল্লিদের তল্লাশি করা হচ্ছিল।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিজাবে রতমত এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী জামাত শুরুর আগে মুসল্লিদের স্বাগত জানান। ঈদ জামাত শেষে, মোনাজাতে ইমাম আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও বাংলাদেশের উন্নতির জন্য দোয়া করেন। তিনি ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং ফিলিস্তিনের নিহতদের জন্যও দোয়া করেন।
এছাড়া, দূরের মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঈদ স্পেশাল ট্রেনও চালু করা হয়। ময়মনসিংহ থেকে সকাল পৌনে ৬টায় এবং ভৈরব থেকে সকাল ৬টায় দুটি বিশেষ ট্রেন কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
ঈদ জামাতের এ বিশাল আয়োজন শোলাকিয়া ঈদগাহের ঐতিহ্য এবং দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের এক অনন্য মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত হয়ে থাকবে।
আজ অনেকের ঘরেই ঈদের আনন্দ নেই: ডা. শফিকুর
চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপি নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি