রং সাইডে বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় সাংবাদিক আহত, ক্র্যাবের নিন্দা

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৩৯ পিএম

একজন জজের 'রং সাইডে' চলা বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় আহত হয়েছেন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)'র সিনিয়র সদস্য, লাইফ টিভির এডিটর ইন চিফ, আনোয়ার হক। এ ঘটনায় প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল ও সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ।

মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) রাতে এ ঘটনায় তিনি প্রাণে বাঁচলেও মারাত্মক আহত হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আনোয়ার হক জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহীর সাহেব বাজারের রাজশাহী প্রেস ক্লাব থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে কোর্ট স্টেশন এলাকায় বাসায় ফিরছিলেন তিনি। রিকশাটি ভেড়িপাড়া মোড় অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে আসা এক জজের হায়েস মাইক্রোবাসটি সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি রাস্তার ওপর ছিটকে পড়েন। ঘাড়, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত পান। এ ঘটনায় রিকশাচালকও মারাত্মক আহত হন। রিকশার সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে। এ সময় মাইক্রোবাসটির চালক গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উপস্থিত জনতা গাড়িটি আটকে দেয়।

এ সময় সাদা পোশাকে মোটরসাইকেলযোগে যাচ্ছিলেন রাজপাড়া থানার দুই সদস্য। তারা গাড়ি ও রিকশা রাস্তার এক পাশে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশের একটি টহল। তারা মাইক্রোবাস ও রিকশা থানায় নেওয়ার উদ্যোগ নেন এবং জনগণকে সরে যেতে বলেন। এ সময় যুবক চিৎকার করতে করতে ঘটনাস্থলে এসে বলতে থাকেন 'স্যারের গাড়ি কে আটকে রেখেছে? সবাই সরে যান।'

গাড়ির কাছে এসে পুলিশ সদস্যদের তিনি বলেন, 'জানেন ভেতরে কে আছে? জজ স্যারের গাড়ি এটা। ওপর থেকে নির্দেশ এসেছে, এই মুহূর্তে গাড়ি ছাড়ার ব্যবস্থা করেন'।

ঘটনাস্থলের পাশের বাসিন্দা উল্লেখ করে নিজেকে রাজশাহী কোর্টের 'নাজির রানা' বলে পরিচয় দেন ঐ যুবক। জানান, ম্যাজিস্ট্রেট শংকর কুমার তাকে পাঠিয়েছেন। নাজির রানা আরও জানান, 'গাড়িটির ভেতরে রয়েছেন চট্টগ্রামের এডিশনাল জজ আলিম উদ্দিন। রাজশাহীতেই তার শ্বশুর বাড়ি।'

'নাজির রানা'র এ নির্দেশনার পরপরই পুলিশ রিকশাচালককে একপাশে নিয়ে গিয়ে দ্রুত ওই এলাকা থেকে বের করে দেয়। আনোয়ার হক গাড়ির ভেতরে বসা 'জজ আলিম'-এর সঙ্গে কথা বলতে চান। কিন্ত প্রথমে তিনি গাড়ি থেকে নামতে রাজি হননি। পরে মিনিট খানেকের জন্য বাইরে এলে সাংবাদিক আনোয়ার হক বলেন, আপনার বেপরোয়া চালকের কারণে আমি তো মারাই যাচ্ছিলাম। উত্তরে সেই বিচারক তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের সুরে ঘাড় ঝাঁকিয়ে বলেন, 'এক্সিডেন্ট হতেই পারে। আর আপনি তো আর মরেননি'!

বলেই তিনি গাড়িতে উঠেই চালককে গাড়ি স্টার্ট দিতে বলেন। পুলিশের সহায়তায় দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায় জজের ওই মাইক্রোবাস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত