রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় মাছ বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নিতে গিয়ে এক ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর, অভিযুক্ত যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার রানশীবাজার এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন।
নিহত মাছ ব্যবসায়ীর নাম আব্দুর রাজ্জাক এবং অভিযুক্ত ও পরে নিহত যুবকের নাম আমিনুল ইসলাম। তারা দুজনেই নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার গোয়ালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রানশীবাজারে মাছ বিক্রির সময় টাকার লেনদেন নিয়ে রাজ্জাক ও আমিনুলের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আমিনুল রাজ্জাকের বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় রাজ্জাক ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ঘটনার পর বাজারের লোকজন আমিনুলকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন এবং গণপিটুনি দিয়ে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে বাগমারা থানার একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
তবে রাজ্জাকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার পর আশপাশের এলাকা, বিশেষ করে নিহতের গ্রামের শত শত মানুষ সেখানে ছুটে আসেন। উত্তেজিত জনতা পুলিশ সদস্যদের বাধা উপেক্ষা করে আমিনুলের ওপর আবারও চড়াও হন এবং নির্মমভাবে পিটিয়ে তাকে হত্যা করেন। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আমিনুল মাদকাসক্ত ছিল এবং টাকার জন্য রাজ্জাককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।’
রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল আলম জানান, দুজনই আগে থেকে পরিচিত এবং একই এলাকার মানুষ। অভিযুক্ত আমিনুল মাদকাসক্ত ছিলেন। তিনি মারা যাবার পরই বিক্ষুব্ধ লোকজন ছুটে গিয়ে আমিনুলকে মারধর করে। এতে তার মৃত্যু হয়।
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। তবে, তদন্তের পর এ বিষয়ে আরো নিশ্চিত হয়ে বলা যাবে।
রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইউক্রেনে শিশুসহ নিহত ১৮
সাভারে চলন্ত বাসে ফের ডাকাতি