হিমালয় পর্বতমালায় অবস্থিত অন্নপূর্ণা-১ (৮০৯১ মিটার) পর্বতের চূড়ায় এবার বাংলাদেশের পতাকা ওড়ালেন ডা. বাবর আলী। সোমবার (৭ এপ্রিল) সকালে তিনি পর্বতশৃঙ্গে পৌঁছান। সেখানে বাবরের সঙ্গে আছেন গাইড ফুর্বা অংগেল শেরপা। বাবার আলীর পর্বতশীর্ষে আরোহণের খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন আউটফিটার মাকালু অ্যাডভেঞ্চারের সত্ত্বাধিকারী মোহন লামসাল ও অভিযানের ব্যবস্থাপক ফরহান জামান।
অন্নপূর্ণা-১ বিশ্বের দশম সর্বোচ্চ উচ্চতার পর্বত। পর্বতারোহীদের মৃত্যুর হার বিবেচনায় বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক পর্বত হিসেবে পরিচিত। দুর্গম এই পর্বত জয় করতে গত ২৪ মার্চ বাংলাদেশ থেকে নেপালে যান বাবর। প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করে কাঠমান্ডু থেকে পোখারা হয়ে ২৮ মার্চ পৌঁছান অন্নপূর্ণা বেজক্যাম্পে। সেখানে এক দিন বিশ্রাম নেন। এরপর উচ্চতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে ক্যাম্প ১–এ (৫২০০ মিটার) দুই রাত এবং ক্যাম্প ২–এ (৫৭০০ মিটার) এক রাত কাটিয়ে আবার ২ এপ্রিল নেমে আসেন বেজক্যাম্পে।
ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স জানিয়েছে, পর্বতারোহীরা অনুকূল আবহাওয়ার জন্য বেজক্যাম্পে অপেক্ষা করছিলেন। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বাবর জানতে পারেন, সেই অনুকূল আবহাওয়া থাকবে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত। তাই ৩ এপ্রিল আবার চূড়ার দিকে উঠতে শুরু করেন। ওই দিন ক্যাম্প ১–এ থেকে পরদিন উঠে যান ক্যাম্প ২–এ। এর মধ্যেই শুরু হয় তুষারঝড়।
প্রতিকূল আবহওয়ার মধ্যেও বাবর পৌঁছে যান ক্যাম্প ৩–এ (৬৫০০ মিটার)। সাধারণত ৭ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতায় ক্যাম্প তৈরি করে পর্বতারোহীরা চূড়ায় আরোহণের চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেন। কিন্তু আবহাওয়া বিবেচনায় বাবর আলী ক্যাম্প-৩ থেকেই সেই পদক্ষেপ নেন ৬ এপ্রিল রাতে।
অভিযানের ব্যবস্থাপক ফরহান জামান বলেন, গত বছর এভারেস্ট-লোৎসে সামিটের পর এবার অন্নপূর্ণা ১–এর শীর্ষে পৌঁছানোর মাধ্যমে বাবর আলী দেশের পর্বতারোহণের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে। ওর কঠোর পরিশ্রম ও নিরলস অধ্যবসায়ের প্রতিফলন এই সাফল্য। আমাদের ইচ্ছা ছিল এবার বাবর আলীকে একসাথে তিন পর্বতে পাঠাব। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আমাদের একটি পর্বতেই থামতে হয়েছে।
তিনি জানান, বাবর আলী আজই ক্যাম্প ২–এ নেমে আসার চেষ্টা করবেন। আগামীকাল ৮ এপ্রিল নামতে পারেন বেজক্যাম্পে।
পর্বতারোহী বাবর আলী চট্টগ্রামভিত্তিক পর্বতারোহণ ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক। গত বছর প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে একই অভিযানে মাউন্ট এভারেস্ট এবং লোৎসে পর্বত জয় করেন। লেখক হিসেবেও আছে বাবর আলীর সুখ্যাতি। তিনি ‘ম্যালরি ও এভারেস্ট’, ‘পায়ে পায়ে ৬৪ জেলা’, ‘সাইকেলের সওয়ারি’, ‘এভারেস্ট ও লোৎসে শিখরে’ নামের ৪টি বইয়ের রচয়িতা। তিনি হাটহাজারী নজুমিয়া হাটের লেয়াকত আলী এবং লুৎফুন্নাহার বেগমের দ্বিতীয় সন্তান। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ৫১তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন।
বাবর আলীর অন্নপূর্ণা অভিযানে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে ভিজ্যুয়াল নিটওয়্যার্স লিমিটেড, ভিজ্যুয়াল ইকোস্টাইলওয়্যার লিমিটেড, এডিএফ অ্যাগ্রো, ফ্লাইট এক্সপার্ট, এভারেস্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ও ব্লু জে।
