আধুনিকতার ভিড়ে মৃৎশিল্প বিলুপ্তির পথে

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:৩৬ পিএম

দুয়ারে কড়া নাড়ছে বাঙালির সর্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখ উৎসবের রূপ ফুটিয়ে তুলতে নববর্ষের উৎসব ঘিরে প্রতি বছর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বৈশাখী মেলা বসলেও এবার মেলা নেই বললেই চলে।

জানা গেছে, এবার শুধু ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নেই একমাত্র বৈশাখের মেলা বসছে। এবছর পর্যাপ্ত মেলা না বসায় বিগত বছরগুলোর তুলনায় চাহিদা কম মৃৎশিল্পের। ফলে মাটির তৈরি পন্যের দোকানে নেই বিক্রির হিরিক। কপালে ভাঁজ পড়েছে মৃৎশিল্প বিক্রেতাদের। কালের বিবর্তনে হারাতে বসেছে মৃৎশিল্পের। যেসব দোকানিরা মাটির তৈরি হাঁড়ি পাতিল, থালা, গ্লাস, নিত্য প্রয়োজনীয় তৈজসপত্র এবং শিশুদের খেলনা বিক্রি করতে দম হারিয়ে ফেলত। সেসব দোকানিরা এখন বিভিন্ন মুদিপণ্য কিংবা অন্য জিনিস বিক্রি করে।

এদিকে মাটির তৈরি  শিশু খেলনার স্থান দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিক ও এলুমিনিয়ামের পণ্য। তবুও আশার বাণী হচ্ছে এবারও শিশুদের বৈশাখ রাঙাবে নানা রকমের মাটির তৈরি খেলনা। তাই উপজেলার কিছু কুমারবাড়িতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। দিনরাত সমানতালে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। ইতোমধ্যে তারা কয়েক দফায় বিক্রি করেছেন বৈশাখী চালান। শেষ মুহুর্তে হরেক রকমের মাটির তৈরি জিনিস পোড়ানো শেষ করে এখন চলছে রঙের আঁচড়। দম ফেলার ফুরসত নেই মৃৎশিল্পীদের। খেলনার মধ্যে রয়েছে মাটির হাঁড়িপাতিল, নানা প্রজাতির পাখি, পুতুল, হাতি, ঘোড়া, হাঁস-মুরগি, নৌকা, ফুল, মাটির ব্যাংক, প্লেট, মগ, গ্লাস, চায়ের কাপ, পিঠা তৈরির ছাঁচ, নানা জাতের ফুল-ফল ও ফুলদানি। 

যদিও আধুনিকতার ছোঁয়ায় মৃৎশিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবুও বংশ পরম্পরায় এবং জীবিকা নির্বাহের তাগিদে অনেকেই এখনো মৃৎশিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাদের একজন উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের খালবলা গ্রামের কুমোর স্বপন চন্দ্র পাল (৪৫) বলেন,পূর্বের পুরুষের এই পেশা আমি এখনও ধরে রেখেছি। আগের মতো এখন আর বৈশাখের  আমেজ নেই। তারপরও এ পর্যন্ত মোটামুটি ভালো বিক্রি হয়েছে। সামনের ১-২ দিন মিলিয়ে আশা করছি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার মাটির জিনিসপত্র বিক্রি করতে পারব। এতে খরচ বাদে ১ লাখ ওপরে লাভ হবে।

অপরদিকে মাটির তৈরি তৈজসপত্র এবং শিশু খেলনা বিক্রির দোকানে গিয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারের কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বৈশাখের আমেজ নেই দোকান গুলোতে। এ ব্যবসায় মন্দা থাকায় অনেকেই পাশাপাশি দোকানে তুলেছেন মুদি পণ্য। পৌর বাজারের মাছ মহালে মাটির জিনিসপত্রের দোকান গণেশ স্টোরে গিয়ে দেখা গেছে, মুদি দোকানের সামনে পসরা সাজানো মাটির তৈরি জিনিসপত্রের। বিক্রেতা অমিত গৌর বলেন, এখন আগের মতো বৈশাখের আনন্দ নেই, তাই বেচাকেনাও নেই। তবে কয়েকদিন ধরে টুকটাক বেচাকেনা হচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে সিনেমা হল রোডের রহিম ট্রেডার্সে গিয়েও। 

উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের জুয়েল মিয়া নামে এক শিশু খেলনা বিক্রেতা বলেন, সারা বছর আমি অন্য কাজ করি। কিন্তু অষ্টমী ও বৈশাখী মেলায় মাটির তৈরী বিভিন্ন খেলনা বিক্রি করি। এবার অষ্টমীর মেলায় ভালো খেলনা বিক্রি করেছি। মোটামুটি লাভ হয়েছে। এখন শিশুদের বৈশাখ রাঙাতেও মেলায় খেলনা বিক্রি করবো।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত