চা বাগানের শ্রমিকদের অন্যতম উৎসব ‘ফাগুয়া উৎসব। ভাষা ও সংস্কৃতিতে একেকটি চা বাগান এক ধরনের হয়ে থাকলেও এ উৎসব যেন বর্ণ-গোত্রের সীমানা ভেঙে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে কাছে টেনে নেয়। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফুলছড়া চা বাগানে বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায় ও সমাজের অন্যান্য অংশের নেতাদের একত্রিত করতে গত শনিবার (১২ এপ্রিল) ফাগুয়া উৎসবের আয়োজন করা হয়।
ফাগুয়া উৎসবের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের উদ্ভোধন করার কথা ছিল অন্তবর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী। কিন্ত তিনি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি, পরবর্তীতে ভার্চুয়ালী যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি। উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ইসরাইল হোসেন।
অবহেলিত শ্রমিক জীবনে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য রক্ষায় শনিবার (১২ এপ্রিল) সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ও ফাগুয়া উৎসব উদযাপন পরিষদের আয়োজনে ও ফুলছড়া চা বাগানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই উৎসব চলে। উৎসবে বিভিন্ন সংস্কৃতির অন্তত ১৮টি পরিবেশনা ছিল। পত্রসওরা, নৃত্যযোগী, চড়াইয়া নৃত্য, ঝুমুর নৃত্য, লাঠিনৃত্য, হাড়িনৃত্য, পালানৃত্য, ডং ও নাগরে,
ভজনা, মঙ্গলা নৃত্য, হোলিগীত, নিরহা ও করমগীত উপভোগ করে আগতরা।
সরেজমিন গেলে দেখা যায়, চা সম্প্রদায়ের ফাগুয়াকে আরও রঙিন করতে ফুলছড়া ফুটবল মাঠে ৫ম বারের মতো ফাগুয়া উৎসব আয়োজন করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক ও ফাগুয়া উৎসব উদযাপন পরিষদ। চা শ্রমিকরা জানান, ফাগুয়া চা বাগানের সবচেয়ে বড় উৎসব। এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করবে এবং তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় সহায়তা করবে। ধীরে ধীরে চা বাগান গুলোতে ফাগুয়া উৎসব আগের মত পালিত হয় না। আগে ফাগুয়ার সময় বাগানগুলোতে কয়েকটি টিম কাঠি নৃত্য করত। এখন তেমন একটা চোখে পরে না, এমন আয়োজন হলে আমাদের ঐতিহ্যটা থাকবে তবে রবিবার সকল চা বাগান সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে তাই আগামীতে এমন আয়োজন সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে করলে আরও ভালো হবে।
ফাগুয়া উৎসবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নিবার্হী অফিসার মো. ইসলাম উদ্দিন, ফাগুয়া উৎসব উদযাপন পরিষদের আহবায়ক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব প্রীতম দাশ, সদস্য সচিব অনিল রায়, শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম, বালিসিরা চা বাগানের জিএম মো. সালাহউদ্দিন, চা শ্রমিক নেতা পরিমল বারাইক প্রমুখ।
উৎসব আয়োজক কমিটির আহব্বায়ক প্রীতম দাশ বলেন, মৌলভীবাজার জেলায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশী চা বাগান রয়েছে। এই চা বাগানে রয়েছে সব চেয়ে বেশী চা জনগোষ্টীর বসবাস। তাদের রয়েছে নিজস্ব কৃষ্টি, সংস্কৃতি। চা শ্রমিকদের সংস্কৃতি ধরে রাখতে আমরা নানান সময়ে নানান অনুষ্ঠান করে থাকি। আর ফাগুয়া উৎসব যেহেতু তাদের বড় উৎসব তাই এই উৎসবকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলতে বড় করে
অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি।
জেলা প্রশাসক ইসরাইল হোসেন বলেন, চা বাগানের সংস্কৃতি যেন কোনোভাবেই বিলুপ্ত না হয়, সেজন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ও জেলা প্রশাসক ও ফাগুয়া উৎসব উদযাপন পরিষদ আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। ফাগুয়া উৎসব যেন সবসময় পালিত হয়, সেজন্য আমরা প্রত্যেকবার আয়োজকদের পাশে দাঁড়াই।
পহেলা বৈশাখে গাইবে না ‘ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠী’
চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে নেত্রকোণায় খনার মেলা