হল খুলে দেয়ার দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে কুয়েট শিক্ষার্থীদের অবস্থান

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:১১ পিএম

হল খুলে দেওয়ার দাবিতে (লিখিত আবেদন দিয়ে) প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থীরা। দাবি না মানলে পরবর্তীতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এমন হুঁশিয়ারি দেন তারা। রবিবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষে শিক্ষার্থীদের আবেদন গ্রহণ করেন ইলেকট্রনিক অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম।

জানা গেছে, রবিবার দুপুর ৩টার দিকে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এ সময় ফটকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের কেউ বাঁধা দেয়নি। প্রায় ৫২ দিন পর ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের অবস্থান নেন। তারা সেখানেই অবস্থান করে হল খুলে দেওয়ার দাবি জানান। বিকাল পৌঁনে ৪টার দিকে শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল শিক্ষার্থীদের কাছে আসেন। এ সময় শিক্ষকরা সিন্ডিকেটের সভা ছাড়া একাডেমিক কার্যক্রম ও হল খোলা সম্ভব নয়। 

এরপর রবিবার রাত ৮টার মধ্যে হল খুলে দেওয়ার লিখিত আবেদন দিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময়ের মধ্যে দাবি না মানলে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।

উল্লেখ্য, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েট ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ হয়। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনার পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম ও আবাসিক হলগুলো বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ছাত্রদের নামে মামলায় কুয়েট শিক্ষক সমিতির উদ্বেগ : কুয়েটের ছাত্রদের নামে মামলা দায়েরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক সমিতি। 

রবিবার সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সাহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বহিরাগত সন্ত্রাসী কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার প্রায় দুই মাস পর জনৈক ব্যক্তি কর্তৃক ছাত্রদের নামে মামলা দায়েরের ঘটনায় শিক্ষক সমিতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় সকলের মধ্যে অনাস্থার পরিবেশ তৈরি করবে এবং ভবিষ্যতে সহাবস্থান অনিশ্চিত করে তুলবে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত অনাকাঙ্খিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। উক্ত সংকট কাটিয়ে উঠতে সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে ও দ্রুত শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা চলছে। ছাত্রদের ওপর হামলাসহ শিক্ষকদের লাঞ্ছিত ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দোষীদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষক সমিতি একাধিকবার দাবি জানিয়ে আসছে।

সেই সঙ্গে বহিরাগত সন্ত্রাসী কর্তৃক হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়ের করা মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ারও জোর দাবি জানিয়ে আসছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু ছাত্র উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিভিন্ন রকম মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে সাধারণ ছাত্রদের প্ররোচিত করা ও তদন্ত কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার তথা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে। এ অবস্থায়, ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক অবস্থা দ্রুত ফিরিয়ে আনতে ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই এক সঙ্গে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করে শিক্ষক সমিতি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত