ভারতের অনুরোধে বেলজিয়ামে গ্রেপ্তার ধনকুবের মেহুল চোকসি

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৫০ এএম

ভারতের অনুরোধে বেলজিয়ামে গ্রেপ্তার হয়েছেন পলাতক ভারতীয় ব্যবসায়ী মেহুল চোকসি। ২০১৮ সালে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া এই হীরার ব্যবসায়ীকে শনিবার আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী বিজয় আগরওয়াল। খবর বিবিসির।

ভারতের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংক পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক (PNB)-এর কাছ থেকে প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা) জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

চোকসি এখনো এই মামলার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন, তাঁরা গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে এবং ভারতে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।

বিজয় আগরওয়াল বলেন, ‘আমরা প্রমাণ দেব যে তিনি পালানোর ঝুঁকিতে নেই এবং তিনি গুরুতর অসুস্থ। বর্তমানে ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।’ 
তাঁর দাবি, প্রত্যর্পণের পেছনে যথেষ্ট প্রমাণ নেই এবং এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ভারতে ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়টিও সন্দেহজনক।

বিবিসি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) কাছ থেকে প্রতিক্রিয়ার জন্য যোগাযোগ করেছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার বরাতে জানা যায়, ২০১৮ ও ২০২১ সালে ভারতের একটি আদালত চোকসির বিরুদ্ধে দুটি জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারি করেছিল। তবে তাঁর এখন গ্রেপ্তারের পেছনের নির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।

চোকসি ও তাঁর ভাগ্নে নিরব মোদির বিরুদ্ধে পিএনবি জালিয়াতির মামলায় তদন্ত চালাচ্ছে ভারত। নিরব মোদি বর্তমানে লন্ডনের একটি কারাগারে রয়েছেন এবং তিনিও প্রত্যর্পণের অপেক্ষায় আছেন।

দুজনই ভারতের হাই-প্রোফাইল হীরার ব্যবসায়ী ছিলেন। নিরব মোদির গয়না পরেছেন হলিউড তারকারা, যেমন নাওমি ওয়াটস ও কেট উইন্সলেট। বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ছিলেন তাঁর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর।

অন্যদিকে, মেহুল চোকসি ছিলেন গীতাঞ্জলি জেমস-এর মালিক, যার এক সময় ভারতে প্রায় ৪,০০০ শোরুম ছিল।

ইডির অভিযোগ, চোকসি ও মোদি মুম্বাইয়ের PNB-এর ব্র্যাডি হাউস শাখার কর্মকর্তাদের সহায়তায় ভুয়া ক্রেডিট সুবিধার মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাঠিয়ে প্রতারণা করেছেন এবং তা পরে মানি লন্ডারিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে তাঁরা দুইজনই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

দেশ ছাড়ার পর চোকসি যুক্তরাষ্ট্র হয়ে অ্যান্টিগুয়ায় গিয়ে নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। ২০২১ সালে তাঁকে ডমিনিকায় আটক করা হয়েছিল, পরে অ্যান্টিগুয়ায় ফেরত পাঠানো হয়।

এই কেলেঙ্কারির বিষয়ে ২০১৬ সালে প্রথম সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন বেঙ্গালুরুর উদ্যোক্তা হরিপ্রসাদ এস ভি। গ্রেপ্তারের খবরে তিনি বলেন, ‘এটা চমৎকার খবর। তাঁকে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লুট করা অর্থ যেন ভারতের কাছে ফেরত আনা যায়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত