বেবিচকের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক 

জুলাইয়ে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালানোর পরিকল্পনা 

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৫, ১১:৩৩ পিএম

আগামী জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে কক্সবাজার বিমানবন্দর বাংলাদেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে যাত্রা শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে বেবিচক। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা পেয়ে বেবিচক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করতে তোড়জোড় শুরু করেছে। গতকাল সোমবার সকালে বেবিচক কার্যালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মন্জুর কবীর ভুঁইয়া। তাছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন বিমানের প্রতিনিধি, ইমিগ্রেশন পুলিশ, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং এয়ারলাইন অপারেটরস কমিটির সদস্যরা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট দিয়ে উদ্বোধন করবে বেবিচক। 

বৈঠকে উপস্থিত থাকা বেবিচকের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন,  গত মাসে প্রধান উপদেষ্টা দ্রুত সময়ের মধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই আলোকে আমরা কাজ চালিয়ে আসছি। জুলাইয়ের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সবকিছু নির্ভর করবে সরকারের উপর। উদ্বোধনী ফ্লাইটটি প্রধান উপদেষ্টা উদ্বোধন করবেন বলে আমরা আশা করছি। তিনি আরো বলেন, কক্সবাজার থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ইতোমধ্যে এয়ারপোর্ট থেকে আন্তর্জাতিক রুট চালুর প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২১ সালে শুরু হওয়া একটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক সুবিধাসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় রানওয়ের সম্প্রসারণ এবং নতুন টার্মিনাল ভবনের নির্মাণ কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব হবে। আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই বঙ্গোপসাগরের দিকে সম্প্রসারিত ১,৭০০ ফুট রানওয়ে নির্মাণ সম্পন্ন হবে, যার ফলে মোট রানওয়ের দৈর্ঘ্য হবে ১০ হাজার ৭০০ ফুট (৩.২৬ কিলোমিটার)। এটি হবে বাংলাদেশের দীর্ঘতম রানওয়ে। প্রাথমিকভাবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো বর্তমান টার্মিনাল ভবন থেকেই পরিচালিত হবে। পরবর্তী সময়ে নির্মিতব্য আধুনিক আন্তর্জাতিক টার্মিনাল ভবনটি সব ধরনের ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ পরিচালনার উপযোগী হবে। নেপাল, ভুটান, উজবেকিস্তান এবং চীনের ইউনান প্রদেশের মতো ভূমিবেষ্টিত দেশগুলোর জন্য কক্সবাজার সবচেয়ে কাছের সমুদ্রগন্তব্য, যার পর্যটন সম্ভাবনা অপার। সরাসরি উইকএন্ড ফ্লাইট চালু হলে কাঠমান্ডু, থিম্পু ও কুনমিং থেকে পর্যটকদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত