বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনমানুষের যে প্রশ্ন, যে চাওয়া, তার সঙ্গে একটি মহলের চাওয়ার অমিল রয়েছে। একটি মহলের কাছে অন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ। যে রাজনৈতিক দলের ওপর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নির্ভর করে, বিশ্বাস রাখে, আস্থা রাখে, সেরকম একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা এতটুকু বার্তা সকলের কাছে পৌঁছে দিতে চাই— আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে।
বৃহস্পতিবার বিকালে দিনাজপুরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রূপরেখার ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
এর আগে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মোরশেদ হাসান, প্রশিক্ষক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন পাভেল, সাত্তার পাটোয়ারী, অ্যাডভোকেট শারমিন ফারহানা পুতুল প্রমুখ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশে যুদ্ধ না হলে শিশু হত্যা হয় না। কিন্তু জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে আমরা দেখেছি পলাতক স্বৈরাচারের নির্বিচার অত্যাচারের কারণে এদেশে ১০০’র মতো শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এই শিশুগুলোর কোনো অপরাধ ছিল না। এই শিশুগুলোর বলিদান কেন? শুধু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। কাজেই আসুন আজকে আমরা যেমন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, কীভাবে আমরা ৩১ দফাকে বাস্তবায়ন করবো।
তিনি বলেন, গতকাল যখন দেখলাম কর্মশালায় ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের নাম তখন আমার চোখে কতগুলো দৃশ্যপট ভেসে উঠলো। প্রতি বছর শীতের সময় এই ৩টি জেলাতে আমি যেতাম। অনেকের সাথেই দেখা হতো। আমি দুস্থ, অসহায় মানুষের জন্য গরম কাপড়ের ব্যবস্থা করে সেগুলো নিয়ে যেতাম। নারী-শিশু ও বৃদ্ধ মানুষকে আমরা এসব কাপড় দিতাম, যতগুলো দেওয়া সম্ভব হতো।
বিএনপির নেতাকর্মীদের অনুষ্ঠানে আসার উৎসাহ দেখে আমার কাছে মনে হয়েছে আমি পাশেই আছি। বিএনপির প্রতি মানুষের আস্তা, বিশ্বাস রয়েছে। এটি অর্জন করতে ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে যেতে হয়েছে, অনেকেই শহীদ হয়েছে, পঙ্গু হয়েছে, অত্যাচারিত হয়েছেন, অন্ধ হয়েছে। তার বিনিময়ে আজকের এই আস্তা ও বিশ্বাস। বিএনপি ডাকলে শত, হাজার, লক্ষ মানুষ আসে বলে জানান তারেক রহমান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আজ অনেকেই সংস্কারের কথা বলছেন। আমি কারও সমালোচনা করছি না। একটি পার্থক্য আছে, আমরা সংস্কার উপস্থাপন কখন করেছিলাম। শুধু এইবারই নয়, বিএনপি দেশের সংস্কার শুরু করেছিল জিয়ার শুরু থেকে। বাকশাল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র। খালেদা জিয়ার সময় প্রেসিডেন্সিয়াল ফর্ম থেকে সংসদীয় পদ্ধতি এগুলো তো সংস্কারের অংশ। ধারাবাহিকভাবে আমরা সংস্কার করে আসার চেষ্টা করেছি, উদ্যোগ গ্রহণ করেছি এবং সংস্কার করেছি। সেটি শিক্ষা, সেটি প্রশাসন, সেটি স্বাস্থ্য, কৃষি, সবক্ষেত্রেই বিএনপি কোন না কোনোভাবে সংস্কারে অবদান রেখেছে।
৩১ দফার বিষয় সম্পর্কে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিজ্ঞা দৃঢ়, নিয়ত পরিষ্কার। আমরা যা বলেছি, আমরা তাই করবো। আমরা শুরু করবো, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম, পরবর্তী নেতাকর্মীরা সেটাকে চালিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা আগেই বলেছি, সংস্কার এমন একটি বিষয় যেটি চলমান। একটি সময়ের মধ্যে কিছু একটা করে যদি থেমে যায় তাহলে সেটি সংস্কার হতে পারে না।
বাংলাদেশে যেকোনো মূল্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে হবে, এ বিষয়ে বিএনপি ও তার প্রতিটি নেতাকর্মী আজ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে জানিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা বসবো, আমরা আলোচনা করে সামনে এগিয়ে যাবো। কোনভাবেই যাতে গণতন্ত্রের উত্তরণ, মানুষের ভোটের অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার বাধাগ্রস্ত না হয়। যদি বাধাগ্রস্ত হয়, সবকিছু ধ্বংস হবে, সবকিছু বাধাগ্রস্ত হবে।
তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৫ বছর জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকারকে কেড়ে নেয়া হয়েছিল, ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। তার ফলশ্রুতিতে আমরা দেখেছি দেশের বিচার ব্যবস্থা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। সমাজে বিভিন্ন রকম অধঃপতন শুরু হয়েছে, বিভিন্ন অনাচার শুরু হয়েছে। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে ইফেক্ট করেছে। অনেকটা ডায়াবেটিস রোগীর মতো। আমরা ৩১ দফা পালন করবো, সুযোগ পেলে ৩১ দফার বাস্তবায়ন করবো। একইভাবে যে সংগ্রামে রাজপথে নেমে এসেছিলাম, বিগত ১৫ বছর ধরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। যেই সংগ্রামের জন্য আমাদের বহু নেতাকর্মী গুম-খুনের শিকার হয়েছে। বহু নেতাকর্মী পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। তাদের এই বলিদানকে বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।
