ঢাকার ধামরাইয়ে গাজী খালী নদীর গতিপথ বন্ধ করে ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবলীগ নেতা মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে। এর সাথে জড়িত ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ও একই ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক ছানোয়ার হোসেন, নান্নার ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক এবং যুবলীগ নেতা সাইফুল। তবে মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম মিলে ইট ভাটার ব্যবসা করেন।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার নান্নার ইউনিয়নের ধাইরা এলাকায় গাজীখালি নদীর গতিপথ বন্ধ করে নদীর মাঝ বরাবর মাটি ইটের আধলা দিয়ে রাস্তা তৈরি করে ফসলি জমির মাটি কেটে ইট ভাটায় বিক্রি করছে মাটি খেকুরা। তারা রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত। পানি প্রবাহ বন্ধ করে রাস্তা তৈরি করায় ব্যাহত হচ্ছে কৃষি জমির সেচ কাজ।
অপরদিকে ফসলি জমিতে এসকেভেটর (ভেকু) মেশিন বসিয়ে ২০ থেকে ২৫ ফুট গর্ত করে মাটি কেটে নিচ্ছে ওই ক্ষমতাধর রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী মহলটি। এতে করে হুমকিতে পড়েছে ধাইরাসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের অধিকাংশ ফসলি জমি। একটি জমির মাটি কাটার ফলে পাশের জমি ভেঙে পড়ছে। নদীতে বাঁধ নির্মান করে ট্রাক চলাচলের জন্য মাটির লিক চলছে। সন্ধ্যার শুরুতেই ভেকু চালু হয় এবং ড্রাম ট্রাক ভরে মাটি যায় আশ পাশের কয়েকটি ইট ভাটায়। দিনের বেলায় মাটি কেটে নিচ্ছে প্রভাবশালীরা। কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে হামলার ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নান্নার ইউনিয়ন যুবলীগের সহ সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে মাটির ব্যবসা করে আসছে। তার সাথে যুক্ত রয়েছেন নান্নার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ও প্রচার সম্পাদক ছানোয়ার হোসেন, ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, যুবলীগ নেতা সাইফুল। দীর্ঘদিন ধরে নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে নদীর অপরপাশের ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছে। মোশারফের নেতৃত্বে বছরের পর বছর মাটির লিক চলেছে। মাটি কাটার কাজ চলে সারারাত ধরে। যারা মাটি কাটে তারা প্রভাবশালী তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারেন না। আগে মোশাররফ ও সাইফুলের নেতৃত্বে মাটির লিক চলতো এখন নজরুল ও ছানোয়ারের নেতৃত্বে চলছে।
তিনি আরো জানান, তারা প্রশাসনকে জানালে মাটি ব্যবসায়ীরা তাদের ক্ষতি করতে পারে। তাদের এভাবে কৃষি জমির মাটি লুটের কারণে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ধুলোবালিতে বাড়িঘরের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
নুরুল ইসলাম নামে একজন জানান, নদীতে বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করে মাটি কেটে নিচ্ছে মোশাররফ, নজরুলরা, আবু বকর সিদ্দিক। কেউ কিছুই বলতে সাহস করে না। সন্ধ্যা নামলেই মাটির ট্রাক চলাচল করতে শুরু করে। এভাবে চলতে থাকে ভোর পর্যন্ত।
ধাইরা এলাকার কয়েকজন নারী জানান, সারাদিন রাত মাটির ট্রাক চলাচলের কারণে তাদের বাড়ি ঘর ধুলায় ভরে যায়। অসহনীয় শব্দ দূষণ তো আছেই। কোনো কথাই এরা শুনে না। প্রতিবাদ করলেও কোন লাভ নেই। যারা মাটি কাটে তারা প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাদের বিরুদ্ধে কোন কথা বলা যাবে না।
মাটি কাটার বিষয়ে মাটি ব্যবসায়ী আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, সবাইকে ম্যানেজ করেই মাটি কাটি। প্রশাসন যদি অনুমতি না দেন তাহলে কি এই ব্যবসা করা যায়? কিন্তু প্রশাসনের কোন পারমিশন তিনি দেখাতে পারেননি।
অপরদিকে নাটের গুরু নান্নার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, আমি এসব করি না। ওরা করে।
কিন্তু সকল কিছুই ঘটে নজরুলের ইশারায়। ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে মোশাররফ হোসেন ও ছানোয়ার, যুবলীগ নেতা সাইফুলদের দিয়ে কাজ করান। বিভিন্ন জনকে ম্যানেজ করেন নজরুল। আগেও আওয়ামী লীগের সাথে মিলে মাটি ও ইট ভাটার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। এখন আবার নিজেই এ ব্যবসার নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। নজরুল গংদের কাছে এলাকার সাধারণ জনগণ জিম্মি হয়ে পড়েছে।
এবিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামনুন আহমেদ অনীক জানান, আমরা অতি দ্রুত ব্যবস্থা নিবো। কৃষি জমি রক্ষার্থে উপজেলা প্রশাসন সবসময় কর্মতৎপর রয়েছে। এর আগে আমরা অসংখ্য ভেকুজব্দসহ অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেছি।
মেট্রোরেলে উপচেপড়া ভিড় সরাসরি..