মাঠের বাইরে লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও জর্দি আলবা ছিলেন সাধারণ দর্শক। পাশে পরিবার নিয়ে চুপচাপ বসে ছিলেন তাঁরা, হাতে ছিল আর্জেন্টাইনদের প্রিয় মাতে। মাঠের ভেতরে অবশ্য ঘটে গেল এক অভাবনীয় নাটকীয়তা। মেসি-বিহীন ইন্টার মায়ামিকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে তাদের অপরাজিত অভিযানে দাঁড়ি টানল এফসি ডালাস।
রবিবার ফ্লোরিডার চেজ স্টেডিয়ামে দুই অর্ধের নাটকীয়তায় রঙিন হয়ে উঠল ম্যাচটি। প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হলো না মায়ামির। ৩-১ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ ৩০ মিনিটে তিন গোল হজম করে হার মানতে হলো হাভিয়ের মাচেরানোর দলকে। এই জয়ে মেজর লিগ সকারে নিজেদের চলতি মৌসুমের অপরাজিত রেকর্ড ধরে রাখল ডালাস (বাইরের মাঠে ৩ জয়, ৩ ড্র)।
ম্যাচ শেষে হতাশ মাচেরানো দোষ চাপালেন নিজের কাঁধেই। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বললেন, 'আমরা ৬০-৬৫ মিনিট ভালো খেলেছি। এরপর আমিই সঠিকভাবে পরিস্থিতি পড়তে পারিনি। বদলি খেলোয়াড় আর কৌশলগত পরিবর্তনে ভুল করেছি। এর দায় সম্পূর্ণ আমার। খেলোয়াড়দের কোনো দোষ নেই।'
অন্যদিকে, আনন্দে আত্মহারা ডালাস শিবির। প্রথম বর্ষের কোচ এরিক কুইল ম্যাচ শেষে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেন গ্যালারিতে, পরে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'এই জয় আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। ছেলেরা পরিশ্রম করেছে, একে অপরের জন্য লড়েছে। আজ তারা দেখিয়ে দিল, আমরা সত্যিকারের একটি দল হয়ে উঠছি।'
তার সাহসী কৌশল বদলই এনে দেয় ম্যাচের মোড়। ৪-২-৩-১ ফরমেশন থেকে ৩-৪-৩ এ রূপান্তর করে মাঠে নামান পেদরিনহোকে, যিনি গোল ও অ্যাসিস্টে ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন।
মেসি না খেললেও ইন্টার মায়ামি বরাবরই এমএলএসের রোল মডেল। তবু ডালাস দেখাল, সংকটেও মাথা উঁচু করে কিভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়। ফরোয়ার্ড পেতার মুসার অনুপস্থিতি আর মিডফিল্ডার লুচো আকোস্তার ম্লান উপস্থিতির মধ্যেও ডালাস জয় ছিনিয়ে নেয়। ম্যাচ শেষে আকোস্তা বলেন, 'এই দল কখনও হার মানে না। আমাদের মধ্যে বিজয়ীর মানসিকতা আছে। আজ সেটা প্রমাণ হয়েছে।'
কোচ কুইলও তাঁর দলের আত্মবিশ্বাসের প্রশংসা করে বলেন, 'হ্যাঁ, মেসি ও সুয়ারেজ ছিল না। কিন্তু মায়ামি দারুণ শক্তিশালী দল। আজ আমরা তাদের সঙ্গে সমান তালে লড়েছি। এই জয় আমাদের দেখিয়ে দিল, আমরা যে কারও বিপক্ষে লড়তে পারি।'
ম্যাচ শেষে মাচেরানো জানান, মেসি সম্পূর্ণ ফিট আছেন। তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল কানকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপের সেমিফাইনাল ফিরতি লেগের কথা মাথায় রেখে। বুধবার একই ভেন্যুতে ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধান ঘোচানোর কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে মায়ামির সামনে।
মাচেরানোর ভাষায়, 'আজ আমরা তিনটি গোল করেও খালি হাতে ফিরেছি। বুধবার আরও বেশি সুযোগ তৈরি করতে হবে। আমাদের পূর্ণ মনোযোগ এখন সেই ম্যাচে।'
ক্লপকে শ্রদ্ধা জানালেন লিভারপুলের হয়ে ইতিহাস গড়া স্লট
৩৫ বছরের অপেক্ষার অবসান, লিভারপুলের ঐতিহাসিক দিন